Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের আলামত মেলেনি তবে ময়নাতদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

admin

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ধর্ষণের আলামত মেলেনি তবে ময়নাতদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার :
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের স্ত্রী ও মেয়েকে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। ময়নাতদন্ত ও পরীক্ষাগারে পাঠানো নমুনা বিশ্লেষণের পর এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের তিনি জানান, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ পরীক্ষার সময় যৌন নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠানো নমুনাতেও ধর্ষণের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

চার সদস্যের মরদেহের ময়নাতদন্ত নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ডোমের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে দুই নারী মরদেহে শুক্রাণু পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। তবে চিকিৎসক এই বক্তব্য নাকচ করে দেন।

Manual1 Ad Code

ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, ময়নাতদন্তের সময় নেওয়া সোয়াব মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ ধরনের কোনো আলামতের উল্লেখ নেই। তাই ময়নাতদন্তের ফল অনুযায়ী ধর্ষণের বিষয়টি বাদ দেওয়া যায়।

ডোম এমন দাবি কেন করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক বলেন, সোয়াব সংগ্রহের সময় তার মনে হয়ে থাকতে পারে যে পরীক্ষায় কোনো ফল পাওয়া যেতে পারে। সম্ভবত সে কারণেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এদিকে চারজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, চারটি মরদেহেই গলায় দাগ ছিল। এ থেকে তাদের শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন চিকিৎসকেরা। কারও শরীরে কাটা বা ছেঁড়ার ক্ষত পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকজনের মাথা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যার ধরন ছিল ফোলা।

মরদেহের অবস্থা সম্পর্কে ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, তাদের যখন মরদেহগুলো দেওয়া হয়, তখন সেগুলো ফুলে গিয়েছিল এবং পোকায় ধরেছিল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক চেহারাও পরিবর্তিত হয়ে যায়।

Manual1 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চারজনের মুখে পোড়া দাগ থাকার যে দাবি ছড়িয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে জানান তিনি। তার ব্যাখ্যা, মৃত্যুর পর সময় যত বাড়ে, ততই ত্বকে পরিবর্তন আসে এবং তা কালচে হয়ে যেতে পারে। ফলে মুখ ও শরীর কালো দেখালেও এর সঙ্গে কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি।

Manual5 Ad Code

গত শনিবার ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

Manual8 Ad Code

ঘটনার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির পরিদর্শক জিনাত আলী।

শেয়ার করুন