নিজস্ব প্রতিবেদক :
কিশোরগঞ্জের ইটনায় খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে নাঈম মিয়া (১৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে পৃথক সময়ে সিলেটের শাহপরান থানা এলাকার পীরেরচক কুশিরগুল খাদিমনগর ও জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বটেশ্বর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
রবিবার (২৩ আগস্ট) ও সোমবার (২৪ আগস্ট) পৃথক অভিযান দিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মুদিরগাঁও গ্রামের মো. গোলাপ মিয়া (৫৫) এবং তার ছেলে রুকেল মিয়া (২৫)।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, নিহত নাঈম মিয়া জয়সিদ্ধি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৬ আগস্ট বিকেলে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলার সময় নাঈমের সঙ্গে আসামি মো. আকাশ মিয়ার তর্কবিতর্ক হয়। এর জেরে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের মুদিরগাঁও এলাকায় কামাল মেম্বারের ফার্মেসির সামনে নাঈম পৌঁছালে গোলাপ মিয়ার নির্দেশে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। নাঈমের চিৎকার শুনে তার চাচাতো ভাই আহাদুল হাসান ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা জখমীদের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
আহত নাঈম ও আহাদুলকে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাঈমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নাঈমের ভাই বাদী হয়ে ইটনা থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রথমে ১৪৩/৩০৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ ধারায় মামলা হলেও পরে এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।
র্যাব জানায়, মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-৯ সদর কোম্পানি, সিলেট ও র্যাব-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের যৌথ দল শাহপরান থানাধীন পীরেরচক কুশিরগুল খাদিমনগর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর পলাতক আসামি রুকেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
অপরদিকে, সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই যৌথ দল শাহপরান থানাধীন জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বটেশ্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি মো. গোলাপ মিয়াকে গ্রেফতার করে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’