Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই মাদ্রাসায় বলাৎকারের শিকার আরও অনেক শিশু, প্রতিরাতে ১/২ জনকে ‘ঘরে নিতেন’ শিক্ষক

admin

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:৪২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সেই মাদ্রাসায় বলাৎকারের শিকার আরও অনেক শিশু, প্রতিরাতে ১/২ জনকে ‘ঘরে নিতেন’ শিক্ষক

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুই শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে সিলেটের এক মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তারের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। গ্রেপ্তার ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরেরবাজার এলাকার ‘জামেয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রসার’ মহতামিম।

তবে কেবল এই দুই শিশু নয়, ওই মাদ্রাসার আরও অনেক শিশু বলাৎকারের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক শিশুর শরীরেই রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন।

Manual4 Ad Code

এদিকে, গ্রেপ্তার মাদ্রাসার শিক্ষক ফয়জুল হক আদালতে বলাৎকারের দায় স্বীকার করেছেন। আর এ ঘটনার পর থেকে ওই মাদ্রাসাটি তালা দিয়ে পালিয়েছেন শিক্ষকরা। তবে এ মাদ্রাসার আর কোন শিক্ষক বলাৎকারে জড়িত কী না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলার পীরেরবাজার এলাকার ‘জামেয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রসায়’ গিয়ে দেখা যায় মাদ্রাসাটির গেইট তালাবদ্ধ। ভেতরে শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসায় বলাৎকারের শিকার এক শিশুর বাবার সাথে বৃহস্পতিবার কথা হয়। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে মাদ্রাসার আট বছরের এক শিশুর স্তন থেকে পুঁজ বের হচ্ছিল। এসময় মাদ্রাসা থেকে অভিভাবকদের খবর দিয়ে ডাক্তার দেখানোর কথা বলা হয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে, ডাক্তার জানান- স্তনে জোড়ে কামড়ের কারণে এমনটি হয়েছে।

Manual1 Ad Code

ওই অভিভাবক বলেন, এরপর মাদ্রাসা বন্ধ হলে বন্ধের পর কেউ মাদ্রাসায় যেতে চায় না। ছেলেকে অনেক মারধর করেছি। তবু সে মাদ্রাসায় যেতে রাজী হয় না, কিছু বলেও না। একপর্যায়ে মারধর সহ্য করতে না পেরে সে নির্যাতনের কথা জানায়।

তিনি বলেন, এরপর আমরা কয়েকজন অভিভাবক মিলে ওই মাদ্রাসায় যাই। তখন আরও অনেক ছাত্র জানায়, ‘তাদেরও একই রকম নির্যাতন করা হয়েছে’। বাচ্চারা জানায়, ‘প্রতিরাতে ১/২ জন করে ছাত্রকে হুজুরের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর খারাপ কাজ করা হয়’। এসব কথা কাউকে না বলতে বাচ্চাদের হুমকী ও নানা ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও জানান এই নির্যাতিত শিশুর বাবা।

পীরের বাজার এলাকার এক বাসিন্দাও এরকম তথ্য জানিয়ে বলেন, এই মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও এরকম শিশুদের সাথে খারাপ কাজের অভিযোগ ওঠেছিল। আমরা এলাকাবাসী আর এই মাদ্রাসা চালাতে দেবো না।

এরআগে দুই শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার মুহতামিম ফয়জুল হককে আটক করে নগরের শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওই মাদ্রাসার হিফজ শাখার দুই শিশু শিক্ষার্থীদের বলাৎকার করেছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক আদালতৈ বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন। ওই মাদ্রাসার আর কোন শিক্ষক এসব কাজে জড়িত কী না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ফয়জুল হকের বাড়ি জৈন্তাপুরে।

গ্রেপ্তারের পর শাহপারান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ বলেছিলেন, ৮ থেকে ১০ বছরের দুটি শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

Manual6 Ad Code

ওই শিশুদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, শিশু দুটি সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি চলে আসে এবং আর মাদ্রাসা যেতে আপত্তি জানায়। অভিভাবকরা মারধর করেও মাদ্রাসা পাঠাতে পারেননি। এক পর্যায়ে শিশু দুটি অভিভাবদের জানায়, প্রতি রাতে হুজুরের ঘরে যেতে হয়। না গেলে মারেন। আর ঘরে গেলে খারাপ খাজ করেন।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে ওসি বলেন, বলাৎকারের কথা উনি স্বীকার করেছেন। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, শিশুদের সাথে এসব খারাপ কাজ না করে আরেকটি বিয়ে করেন না কেন, জবাবে ফয়জুল বলেছেন, ‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’।

Manual7 Ad Code

শেয়ার করুন