Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলে যাচ্ছে সিলেট নগরীর যে পার্ক, থাকবে যা যা

admin

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
বদলে যাচ্ছে সিলেট নগরীর যে পার্ক, থাকবে যা যা

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কখনো ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন, কখনো শিশুপার্ক—বছরের পর বছর নানা পরিকল্পনা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে সিলেট নগরীর ৯৪ শতকের জালালাবাদ পার্ক। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এবার নতুন পরিকল্পনায় পার্কটি সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সংস্কারের পর নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’।

Manual5 Ad Code

জানা যায়, ২০০৫ সালে জালালাবাদ পার্কের জায়গায় ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিসিক। পরিবেশবাদী সংগঠন ও নগরবাসীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের দিকে সীমানা নির্ধারণ ও প্রবেশপথ নির্মাণের পর জায়গাটি সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এরপর পার্কটিকে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিনোদনসামগ্রী স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। একই সময়ে সম্মুখভাগে উঁচু দেয়াল নির্মাণ নিয়েও নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত উঁচু দেয়াল পার্কটির উন্মুক্ত পরিবেশ ও দৃশ্যমানতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

অবশেষে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর আবার সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) নগর ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্কটি পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেন।

Manual7 Ad Code

নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার সুযোগ রাখা হবে। থাকবে বসার স্থান, সবুজায়ন ও বিনোদনের পরিবেশ। একই সঙ্গে পরিবর্তন করা হবে পার্কের প্রবেশপথ ও সীমানাপ্রাচীর।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পার্কটির এক পাশে সিলেট সার্কিট হাউস, অন্য পাশে জেলা পরিষদ। সামনে ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, পাশেই সুরমা নদী ও আলী আমজাদের ঘড়িঘর। ফলে নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটির গুরুত্ব রয়েছে।

Manual6 Ad Code

সিসিক প্রশাসক বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যান এবং সুন্দর সময় কাটান। এবার জালালাবাদ পার্কটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার উপযোগী করে পার্কটি সাজানো হবে।

Manual2 Ad Code

তিনি আরও বলেন,বর্তমান গেট ও সীমানাপ্রাচীরও পরিবর্তন করা হবে। বাইরে থেকে যেন পার্কের ভেতরের পরিবেশ দেখা যায়, সেভাবেই সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভবিষ্যতে পার্কটিকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক। ক্বীন ব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজাদের ঘড়িঘরের কাছাকাছি হওয়ায় সংস্কারের পর এর পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার বড় প্রশ্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ থেকে শিশুপার্ক—একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও পার্কটির স্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। তাই নগরবাসীর প্রত্যাশা, এবার শুধু নাম পরিবর্তন বা সৌন্দর্যবর্ধন নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ৯৪ শতকের এই উদ্যানকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখা হবে।

শেয়ার করুন