Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া খ ণ্ড-বি খ ণ্ড দেহটি সিলেটি ব্যক্তির!

admin

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
চট্টগ্রামে উদ্ধার হওয়া খ ণ্ড-বি খ ণ্ড দেহটি সিলেটি ব্যক্তির!

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
গত ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের পতেঙ্গা থানা এলাকায় লাগেজে পাওয়া খণ্ডবিখণ্ড মরদেহটি সিলেটি এক বৃদ্ধের। পুলিশ বলছে- ওই ব্যক্তির বর্তমান ঠিকানা সিলেট সদর উপজেলার সাধুরবাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনি এলাকায়। খবর ‘ঢাকা পোস্ট’র।

পুলিশ বলছে- ওই বৃদ্ধের নাম মো. হাসান (৬০)। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানরা মিলে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় হাসানের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ও ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গা থানার ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল মানুষের শরীরের ৮টি খণ্ড। এর মধ্যে ছিল ২ হাত, ২ পা, কনুই থেকে কাঁধ এবং হাঁটু থেকে উরু পর্যন্ত অংশ। প্রত্যেকটি অংশ টেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল। তবে ওই লাগেজে ভুক্তভোগীর মাথা না থাকায় তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

Manual5 Ad Code

এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদেরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, খণ্ডবিখণ্ড এই মরদেহ পরিচয় শনাক্ত ও রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামেন পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা প্রথমে ফিঙ্গার প্রিন্টের সহায়তায় নিহত ব্যক্তি মো. হাসান (৬০) বলে শনাক্ত করেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী হাসান চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালীর উপজেলার কাথারিয়া এলাকার সাহেব মিয়ার ছেলে। তবে তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট সদর উপজেলার সাধুরবাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনি এলাকায় বলে জানায় পিবিআই।

Manual4 Ad Code

পিবিআই জানায়, অন্তত ৩০ বছর ধরে ভুক্তভোগী হাসানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল না। এসময়ে তিনি কোথায় ছিলেন তাও জানতেন না পরিবারের সদস্যরা। গত এক বছর আগে হঠাৎ তিনি স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হাসান। তাঁর নামে কিছু পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। যেগুলো নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য হাসানের স্ত্রী এবং সন্তানরা তাঁকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু তিনি বিষয়টিতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের পকেট গেট এলাকার জমির ভিলা ভবনের একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তানরা মিলে হাসানকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে ফেলে। এটি হাসানের ছোট ছেলের বাসা ছিল।

Manual1 Ad Code

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে আকমল আলী রোডের সেই বাসা থেকে হাসানের ছেলেকে বস্তায় ভরে মরদেহ বের করতে দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়- ১৯ সেপ্টেম্বর হাসান, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের অবস্থান বাসাটিতে ছিল। ওইদিনই সম্পত্তি লিখে দেওয়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে হাসানকে খুন করা হয়।

Manual3 Ad Code

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো কয়েকভাগে ফেলে দেয়, যাতে হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু পাওয়া না যায়। কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে নিয়ে হাসানের মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত হাসানের আরেক ছেলেসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন