Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতিউরের শিক্ষার্থী ছেলেমেয়ে শতকোটি টাকার মালিক, আত্মীয়রাও কোটিপতি

admin

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪ | ০২:৩১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৪ | ০২:৩১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
মতিউরের শিক্ষার্থী ছেলেমেয়ে শতকোটি টাকার মালিক, আত্মীয়রাও কোটিপতি

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
ছাগলকাণ্ডে আলোচনায় আসা মতিউর রহমানের কথা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদ্য সাবেক সদস্য মতিউরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুস লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানেই তার শত শত কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি নিজের নামে সম্পদ করেছেন কম। বেশি করেছেন স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের নামে।

মতিউর পরিবার নিয়ে যে বাসা-বাড়িতে থাকেন সেগুলোও নিজের নামে করেননি। বসুন্ধরায় অত্যাধুনিক যে বাড়িতে থাকেন সেটা মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতার নামে করেছেন। স্ত্রী ও ভাইদের নামে করেছেন শিল্পকারখানা, রিসোর্টসহ বিপুল সম্পত্তি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আয়কর ফাইল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মতিউরের অপরাধলব্ধ আয়ে পরিবারের উপার্জন নেই এমন সদস্যদের নামেও শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

শিক্ষার্থী ছেলেমেয়েও হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক। কলেজ শিক্ষক ও গৃহিণী স্ত্রীদের নামেও প্লট, ফ্ল্যাট, জায়গা-জমির ছড়াছড়ি। ২০২৩ সালে মতিউরের প্রথম পক্ষের কানাডা প্রবাসী মেয়ে ইপ্সিতা তার আয়কর নথিতে ৪২ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য তুলে ধরেছেন।

Manual6 Ad Code

এর মধ্যে সাত কোটি টাকা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন ৫টি কোম্পানিতে। নরসিংদী, গাজীপুর ও ঢাকায় জমি ও বাড়ির দাম দেখিয়েছেন প্রায় ১৩ কোটি টাকা। প্রকৃত অর্থে এসব সম্পদের দামই ৭০ কোটি টাকার বেশি।

আয়কর নথিতে আরও দেখা গেছে, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, নিজের কোম্পানিকে দেওয়া ঋণ ও ভাইকে দেওয়া ধার বাবদ তার সম্পদ আছে ২২ কোটি টাকার। নরসিংদীতে হেবামূলে দেড় একর জমির মালিক ইপ্সিতা। আয়কর নথিতে এই জমির বর্ণনা দেওয়া থাকলেও দাম উল্লেখ করা হয়নি।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৫ কাঠা জায়গায় নির্মিত বিলাসবহুল সাত তলা বাড়ির দাম দেখানো হয়েছে মাত্র ৫ কোটি টাকা। নীলক্ষেতে পার্কিং স্পেসসহ দেড় হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাটের দাম দেখানো হয়েছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা।

Manual3 Ad Code

মেয়ের মতো মা লায়লা কানিজ লাকীরও অঢেল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। আয়কর নথিতে তার মাত্র ১২ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আছে। বিপরীতে তিনি ২ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাই কাইয়ুম হাওলাদার ও নূরুল হুদার নামেও বাড়ি-গাড়ি, ফ্ল্যাট, একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টসহ বিপুল সম্পদ করেছেন মতিউর।

Manual4 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মতিউরকে আইনের জালে আটকাতে হলে গভীরে গিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে। কারণ তিনি নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে দুই পক্ষের স্ত্রী-সন্তান ও ভাই, ভায়রাসহ আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

ছাগলকাণ্ডের ১৪ দিন পর প্রথম স্ত্রী লাকী প্রকাশ্যে এলেও এখনো মতিউরের হদিস নেই। তিনি কর্মস্থলেও যাচ্ছেন না। এনবিআরের সদস্য পদ থেকে তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

সেখানে তিনি কারও মাধ্যমে যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন নাকি ছুটি নিয়েছেন, যোগদানপত্র জমা না দিলে বা ছুটি না নিলে তার বিরুদ্ধে কি ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে সে বিষয়েও কেউ মুখ খুলছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পুরোনো ভবনের দোতলায় তার জন্য নির্ধারিত কক্ষটিও পরিপাটি করা হয়নি।

তবে তিনি নিজেকে রক্ষায় বরাবরের মতোই প্রভাবশালী মহলে তদবিরে নেমেছেন। গণমাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে যাতে সংবাদ প্রচার না হয় সে চেষ্টাও চালাচ্ছেন। তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকী প্রকাশ্যেই বলেছেন, ঢাকার ও নরসিংদীর টেলিভিশন ও পত্রিকার বড় বড় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই রায়পুরায় গেছেন। আর কিছু হবে না। সব থেমে যাবে বলেও দম্ভোক্তি করেছেন তিনি।

ঈদুল আজহার আগে মোহাম্মদপুরের বিতর্কিত সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কেনেন ধানমন্ডির তরুণ মুশফিকুর রহমান ইফাত। এই ছাগল কেনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে ইফাতের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ছেলের সেই ছাগলকাণ্ডের পরই দৃশ্যপটে আসে এনবিআর সদস্য মতিউর রহমান পরিবারের বিপুল সম্পদ।

শেয়ার করুন