স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনটি পুনরুদ্ধার করল বিএনপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর (উত্তর) জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
এর আগে এই আসনে জেলা বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রয়াত লুৎফর রহমান এই আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও ধারাবাহিক পরাজয় ঘটে বিএনপির।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও পরাজয় ঘটে তাদের। তখন এই আসনে এমপি নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরফ উদ্দিন খছরু। এরপর ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়লাভ করতে পারেনি বিএনপি। তখন এই আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর ২০০১ সালে এই আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হন ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া।
এভাবে ২০০৮, ২০১৮ সালে ধারাবাহিক পরাজয় ঘটে বিএনপির। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর-এর আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন।
এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬১২টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতা ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮টি। এই হিসাব মতে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লার সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল বিএনপি, ১১দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ ৫ জন প্রার্থী।
জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও গোলাপগঞ্জ বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মহিউসসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপির বিজয় একটি ঐতিহাসিক বিজয়। বিগত ৪৭ বছর এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একতাবদ্ধ থাকা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং নিঃস্বার্থ ভালবাসা থাকার কারণে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের সেলিম জানান, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান জয়লাভ করেছিলেন। এরপর আর কখনো বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে আবার বিএনপি এই আসন পুনরুদ্ধার করল।