Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১০, নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান

admin

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ১০, নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৮০ জন বাসিন্দা, যাদের উদ্ধারে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বিশাল অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

Manual4 Ad Code

রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পশ্চিম বান্দুংয়ের পাসির লাঙ্গু গ্রামে গত শনিবার ভোরের দিকে এই বিপর্যয় ঘটে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগের দিন থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ের নড়বড়ে মাটি ধসে পড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, পশ্চিম জাভাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় এই বৃষ্টিপাত আরও এক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।

উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস টিভির তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকার মাটি অত্যন্ত নরম ও নড়বড়ে হয়ে থাকায় শনিবার উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেননি।

Manual5 Ad Code

দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চললেও কর্দমাক্ত মাটির কারণে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ধসে পড়া মাটি ও জঙ্গল থেকে আসা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে অনেক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই পাহাড়ি অঞ্চলে এর আগে কখনো এত বড় মাপের ভূমিধস তারা দেখেননি। ৩৬ বছর বয়সী বাসিন্দা দেদি কুর্নিয়াওয়ান রয়টার্সকে বলেন যে, এর আগে মাঝেমধ্যে নদীতে সামান্য বন্যা হলেও এবার পাহাড়ের জঙ্গল থেকে নেমে আসা মাটি পুরো জনপদকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

জাকার্তা ও পশ্চিম জাভার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উঁচু স্থানে সরে যাচ্ছেন। গত দুই মাস আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসে ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যুর ক্ষতের রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন দুর্যোগ দেশটিকে বড় ধরনের মানবিক সংকটে ফেলেছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ ৮০ জনের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা না কমলে উদ্ধারকাজ পুরোপুরি সফল হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

Manual5 Ad Code

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং বাসিন্দাদের পাহাড়ের পাদদেশ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

Manual5 Ad Code

শেয়ার করুন