Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে সিলেটে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের আশা

admin

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ | ০৫:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ | ০৫:১৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ঈদে সিলেটে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের আশা

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual6 Ad Code

ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট। ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ সাত দিনের ছুটিতে পর্যটক বরণের অপেক্ষায় সবুজ চা-বাগান, পাহাড়, ঝরনা, ভেসে আসা পাথর আর স্বচ্ছ জলরাশি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আরও অপরূপ সাজে সেজেছে শুষ্ক চা-বাগান, ঝরনা ও পাথরের নদী। এরই মধ্যে ঈদ ঘিরে সিলেটের ৮৫ ভাগ আবাসিক হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে।

Manual6 Ad Code

সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় দেশের নানা প্রান্ত থেকে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে। দীর্ঘদিনের পর্যটক-খরা কাটিয়ে চাঙা হবে পর্যটন খাত। এতে ১০০-১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে বলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

Manual3 Ad Code

কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সিলেটের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, উৎমা ছড়া, তুরুং ছড়া, জৈন্তাপুরের লালাখাল, পান্তুমাই ঝরনা ও নগরীর চা-বাগান প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। পাথর আর স্বচ্ছ জলের মেলবন্ধনে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে তো পর্যটকদের সমাগম সারা বছরই লেগে আছে। সব মিলিয়ে সিলেটে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কখনোই নিরাশ করে না এখানকার প্রকৃতি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর সিলেটের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রের বালু-পাথর লুটপাটের ঘটনার পর এবার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার জেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে সিলেটে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান-বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে।

গোয়াইনঘাটের রাতারগুল জলাবনসংলগ্ন (সোয়াম্প ফরেস্ট) রাতারগুল গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে রাতারগুলে পর্যটক বরণে আমরা প্রস্তুত। রাতারগুলের তিনটি ঘাট মিলে ২০০-২৫০টি নৌকা রয়েছে।’

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ‘সিলেটের ৮৫ ভাগ আবাসিক হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। দেড় বছর ধরে দেশের নানা সিলেটের পর্যটন খাত জমে ওঠেনি। তবে এবার জমে উঠবে পর্যটন খাত। আমরা আশা করছি, ১০০-১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে সিলেটের পর্যটন খাতে। ঈদের সময়ে সিলেটে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের উপস্থিতি ঘটবে বলে আশা করছি।’

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, ঈদ উপলক্ষে সিলেটের হোটেল-মোটেল পুরোপুরি পর্যটকে পূর্ণ হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সিলেটে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি বৈঠক হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

শেয়ার করুন