স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র কোরআন শরীফ পায়ের নিচে রেখে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে মিলন মিয়া নামে এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এরপর যুবকের ফাঁসির দাবিতে উত্তেজিত জনতা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন।
সোমবার ইফতারের পুর্বে আলীনগর ইউনিয়নের বড়খোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিলন মিয়া পারিবারিক কলহের জেরে স¤প্রতি তার স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে বড়খোলা জামে মসজিদের ইমামের কাছে গিয়ে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ইমাম এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে মিলন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে অশালীন আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি মসজিদের ভেতর থাকা পবিত্র কোরআন শরিফ পায়ের নিচে রেখে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহুূর্তের মধ্যে শতাধিক মুসলমান মসজিদের সামনে জড়ো হন। চরম উত্তেজনার এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা মিলন মিয়াকে ধরে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ঘটনারদিন রাত সাড়ে ১১টায় শতশত মানুষ অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহকারি পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সার্কেল মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু ঘটনাস্থল ও থানা এলাকায় অবস্থান নেন।
তিনি বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাকারী যুবককে আটক করে ব্যাক্তির বিরোদ্ধে মামলা হয়েছে। মাবর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।