Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত সমর্থকদের হামলায় বিএনপি নেতার চোখে জখম, দৃষ্টি হারানোর খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

admin

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:২৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:২৫ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
জামায়াত সমর্থকদের হামলায় বিএনপি নেতার চোখে জখম, দৃষ্টি হারানোর খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়া–৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা (মজিদ) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন এবং বর্তমানে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Manual4 Ad Code

মাসুদ রানার এক চোখের দৃষ্টি হারানোর খবর শুনে তার মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। রাবেয়া বেওয়া ওই গ্রামের প্রয়াত মোহাম্মদ আলী আকন্দের স্ত্রী ছিলেন।

আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ জানান, তাঁর বাবার দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর শুনে দাদির হার্ট অ্যাটাক হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান।

বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, হামলার পর মাসুদ রানাকে তার স্ত্রী সালমা বেগম শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার ডান চোখের দৃষ্টি ফেরানো যাবে না। পরে পরিবারের মাধ্যমে শাশুড়ি রাবেয়া বেওয়াকে এই খবর দেওয়া হলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।

Manual7 Ad Code

এর আগে সোমবার রাতে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সালের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করা হয়। তাকে মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রাখা হলে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলধারী, লাঠিসোঁটা হাতে, জামায়াত-সমর্থকরা হামলা চালিয়ে বাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং মাসুদ রানাকে গুরুতর জখম করেন। হামলাকারীরা বেলাল ও ফারুককে নিয়ে চলে যান।

Manual7 Ad Code

প্রাথমিকভাবে মাসুদ রানাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান পল্লব সেন জানিয়েছেন, গুরুতর জখমে মাসুদ রানা এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। চোখে জটিল অস্ত্রোপচার দরকার হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল বগুড়া প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা ঘটনার পাল্টাপাল্টি বিবরণ তুলে ধরেন।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে পারশুন গ্রামে ভোটারদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে টাকা বিতরণ করতে গিয়েছিলেন। বিএনপি কর্মীরা দুজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশকে খবর দেয়। তবে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শত শত জামায়াত সমর্থক সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালান। তারা ভাঙচুর করেন এবং মজিদসহ দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

মোশাররফ অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাসুদকে মারধর করেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলেন এবং তার ভাইকেও মারধর করেছেন। মাসুদ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, তার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন মোশাররফ।

ওই ঘটনায় আজ বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। দলের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, টাকা বিতরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। গতকাল রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেন প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার নেতৃত্বে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং মাসুদের বাড়িতে তাকে বেধে রাখা হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনকে জানালে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে উদ্ধার করতে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার নেতৃত্বে তাঁর লোকজন হামলা করেন। এতে দাঁড়িপাল্লার বেশ কিছু কর্মী গুরুতর আহত হন। তবে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদত হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থালে যাওয়ার আগেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ‘পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছে।

শেয়ার করুন