Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা চতুর্থবারের মতো জনসংখ্যা কমলো চীনে

admin

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
টানা চতুর্থবারের মতো জনসংখ্যা কমলো চীনে

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
চীনের জনসংখ্যা টানা চার বছর ধরে কমছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালেও কমেছে দেশটির জনসংখ্যা। চীনের সরকারি তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জন্মহার রেকর্ড পর্যায়ে নিচে নেমে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

Manual1 Ad Code

সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, চীনের জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার কমে বর্তমানে ১৪০ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে মাত্র ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম।

Manual4 Ad Code

চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মৃত্যু বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ, যা ১৯৬৮ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রতি ১ হাজার জনে জন্মহার কমে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, ২০২৫ সালের জন্মহার ১৭৩৮ সালের স্তরের কাছাকাছি, যখন চীনের মোট জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১৫ কোটি।

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
২০২২ সাল থেকে চীনের জনসংখ্যা কমতে শুরু করেছে এবং মানুষ দ্রুত বৃদ্ধ হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীনের মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ মানুষের বয়স এখন ৬০ বছরের বেশি। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ কোটিতে পৌঁছাবে। এর ফলে কর্মক্ষেত্র থেকে বিশাল এক জনশক্তি বিদায় নেবে, যা পেনশন বাজেটের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করবে।

এই চাপ সামলাতে চীন সরকার ইতিমধ্যেই অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে পুরুষদের জন্য ৬৩ এবং নারীদের জন্য ৫৮ বছর করেছে।

Manual2 Ad Code

বিয়েতে অনীহা ও এক সন্তান নীতির প্রভাব
চীনে জন্মহার কমার প্রধান একটি কারণ হচ্ছে বিয়ের সংখ্যা কমে যাওয়া। ২০২৪ সালে বিয়ের হার রেকর্ড ২০ শতাংশ কমেছিল। তবে ২০২৫ সালে নিয়ম সহজ করার পর (যেকোনো জায়গায় বিয়ের নিবন্ধন করা) বছরের শেষ দিকে বিয়ের হার কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।

চীনের দীর্ঘদিনের ‘এক সন্তান নীতি’ (১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল) মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক চিন্তাধারায় স্থায়ী পরিবর্তন এনেছে, যা এখন জন্মহার বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা
শহরাঞ্চল ও দামি জীবনযাত্রার কারণে মানুষ এখন সন্তান নিতে কম আগ্রহী। এ সমস্যা মোকাবিলায় চীন বড় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, জন্মহার বৃদ্ধি করতে চীন এ বছর প্রায় ২ হাজার ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করতে পারে।

সরকারের নতুন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় শিশু ভাতা, যা গত বছর থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে গর্ভবতী নারীদের সব চিকিৎসা খরচ, এমনকি আইভিএফ পদ্ধতিও সরকারি বিমার মাধ্যমে দেওয়ার ঘোষণা। বর্তমানে চীনের প্রজনন হার একজন নারী গড়ে ১টি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, যা বিশ্বজুড়ে সর্বনিম্ন দেশগুলোর একটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা চলতে থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন নারীর সংখ্যা তিন-চতুর্থাংশ কমে ১০ কোটির নিচে নেমে আসতে পারে।

Manual1 Ad Code

শেয়ার করুন