Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাস ও অতীতের নির্বাচন

admin

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাস ও অতীতের নির্বাচন

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
ডাকসুর প্রথম সভাপতি ও ভিপি ১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ পদাধিকারবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হন। ছাত্রদের মধ্যে থেকে সহ-সভাপতি হন আহমেদুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক হন সুধীর দত্ত।

Manual3 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই শুরু হয়েছিল ছাত্র সংসদ। যদিও শত বছরের ইতিহাসে বেশির ভাগ সময়ই ছিল না এর কার্যক্রম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। এ কারণেই ডাকসুকে কেউ কেউ দেখেন ‘দ্বিতীয় সংসদ’ হিসেবে।

১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই স্যার এ. এফ. রহমানের উদ্যোগে তিন আবাসিক হলে (মুসলিম হল, জগন্নাথ হল ও ঢাকা হল) ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ। শুরুতে একে ‘ডাকসু’ নামে ডাকা হতো না। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ’ থেকে তিন দশক পর নামকরণ হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।

Manual1 Ad Code

হল ছাত্র সংসদের সাফল্যের পর ১৯২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ গঠিত হয়। প্রত্যেক হল থেকে তিনজন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক আর উপাচার্যের মনোনীত একজন শিক্ষক এই নিয়ে সংসদ। শিক্ষকদের মধ্যে একজন সভাপতি হতেন। ১৯৪৪-৪৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করে। এই গঠনতন্ত্রের অধীনে ১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ পদাধিকারবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হন। ছাত্রদের মধ্যে থেকে সহ-সভাপতি হন আহমেদুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক হন সুধীর দত্ত। পরের বছরেও এই সংসদ থেকে যায়, তবে আহমেদুল কবির পদত্যাগ করায় ফরিদ আহমদ সহ-সভাপতি হন।

১৯৪৭-৪৮ সালে সহ-সভাপতি হন জগন্নাথ হলের অরবিন্দ বসু এবং সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম আযম (রাজনীতিবিদ)। এই সংসদও পরের বছরে থেকে যায় এবং কোনো এক সময়ে গোলাম আযমের বদলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন এ. জেড. খান (পরবর্তীতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক)। তারপর ১৯৫০ সালে তাদের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ গঠনের আর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

Manual2 Ad Code

অতীতের নির্বাচন
১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ৩৭ বার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের নির্বাচনে সহ-সভাপতি হন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরুল হক নুর এবং বর্তমান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১৯ বার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৭ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে ডাকসু নির্বাচন একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ডাকসুর ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুর জামান।

Manual5 Ad Code

১৯৯০ সালের পর ১৯৯১ সালের ১৮ জুন ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময় সহিংসতার কারণে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ছাত্রলীগের বিরোধিতার কারণে নির্বাচন হয়নি।

১৯৯৬ সালে অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী উপাচার্য হওয়ার পর একাধিকবার ডাকসু নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
১৯৯৮ সালে ডাকসু কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল, কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। মাঝে মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন এবং সিনেটে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও এসেছে। তবে তাতে কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

২০০৫ সালে ডাকসু নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করলেও, ছাত্রলীগের বিরোধিতার কারণে নির্বাচনটি বাস্তবায়িত হয়নি। এই সময় ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করলেও ছাত্রলীগের প্রতিরোধের কারণে তাদের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ২০১২ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, ধর্মঘট, কালো পতাকা মিছিল এবং ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’ তৈরি করা হয় এবং লাগাতার আন্দোলনও চলে বেশ কিছুদিন। তবে নির্বাচনের দাবি উঠলেও তা খুব জোরালো হয়নি। ২০১৯ সালে হাইকোর্টের রায়ের পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

শেয়ার করুন