Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তথ্য পাচারের দায়ে প্রসিকিউটর সুলতানকে সরাতে দেড়মাস আগেই চিঠি দিয়েছিলেন তাজুল

admin

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
তথ্য পাচারের দায়ে প্রসিকিউটর সুলতানকে সরাতে দেড়মাস আগেই চিঠি দিয়েছিলেন তাজুল

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদকে অপসারণের জন্য দেড় মাস আগেই সুপারিশ করে আইন উপদেষ্টা বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। অনুমতি ছাড়া প্রসিকউশন কার্যালয়ের গোপন তথ্য আসামীপক্ষকে হস্তান্তর, বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করা, সুপ্রিম কোর্ট বারের নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর, স্ত্রীকে নির্যাতন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অপসারণের ওই চিঠি দিয়েছিলেন তাজুল।গত ১১ জানুয়ারি এই অনুরোধ জানিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে তিনি চিঠি পাঠান বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। আইন মন্ত্রণালয় থেকে সেই চিঠির একটি অনুলিপি পেয়েছে টিবিএস।এর আগে গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের দিনই বি এম সুলতান মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী বানানোর অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেড় মাস আগে সুলতান মাহমুদকে অপসারণের বিষয়ে তৎকালীন আইন উপদেষ্টাকে তাজুল ইসলামের চিঠি দেওয়ার বিষয়টি সামনে এল।

Manual5 Ad Code

চিঠিতে তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যাদি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছেন বলে তিনি জেনেছেন। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই স্বপ্রণোদিতভাবে প্রসিকিউটর হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য আইনবহির্ভূতভাবে অন্যত্র সরবরাহ একটি বেআইনি কর্মকাণ্ড এবং তদন্ত ও বিচারাধীন স্পর্শকাতর মামলার জন্য গুরুতর নিরাপত্তাহুমকি।’

Manual5 Ad Code

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের লিফটে যাতায়াতের সময় তুচ্ছ ঘটনায় নিরাপত্তা প্রহরী মো. মাঈন উদ্দিনকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন সুলতান মাহমুদ। পরে তাকে জোর করে গানম্যান দিয়ে ধরে বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিস কক্ষে নিয়ে প্রচণ্ড মারধর করেন। এ সময় তার শরীরে বিভিন্ন জখম হয় এবং তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন টিমের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ গানম্যানকে দিয়ে তুচ্ছ কারণে যত্রতত্র যাকে–তাকে গুলি করার নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ করেন তাজুল ইসলাম। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, এই অভিযোগে এ পর্যন্ত চারজন গানম্যান স্বেচ্ছায় সুলতান মাহমুদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। এমন অবস্থায় তাৎক্ষণিক গানম্যান পরিবর্তন করে দিতে হয়।

অপসারণ–অনুরোধে তাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সুলতান মাহমুদ তার স্ত্রীকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন করেন। এ বিষয়ে তার স্ত্রী অভিযোগ দাখিল করেছেন।

Manual3 Ad Code

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বিভিন্ন সময়ে মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের বাসায় ডেকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক পরামর্শ, মিথ্যা তথ্য ও উসকানি প্রদানের মাধ্যমে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর ।

চিঠিতে তাজুল ইসলাম লেখেন, এমন কর্মকাণ্ড ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং আদালতের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। দায়িত্ব পালনে কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করা, দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা ও অনাগ্রহ, নিজ কর্তব্য সঠিকভাবে পালন না করা এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফিলতি নিয়মিতভাবে পরিলক্ষিত হয়ে আসছে।

সব কারণে প্রসিকিউটর পদ থেকে সুলতান মাহমুদকে অপসারণের অনুরোধ করেন তাজুল ইসলাম। চিঠির সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বরাবর নিরাপত্তা প্রহরী মাঈন উদ্দিনের দেওয়া অভিযোগ এবং চিফ প্রসিকিউটর বরাবর হাতে লেখা সুলতান মাহমুদের স্ত্রীর একটি চিঠিও যুক্ত করেন তিনি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তাদের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারি—সেই আশঙ্কা থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। সেই গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আগে থেকেই তারা এসব প্রস্তুত করে রেখেছিল, যাতে সময়মতো আমার বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে পারে। কারণ, আমি যদি অন্যায় করে থাকতাম, তাহলে তারা আমাকে শোকজ করত, নোটিশ দিত—এসব কিছুই করেনি।’

Manual5 Ad Code

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হলে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ১৬ সদস্যের প্রসিকিউশন টিমে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছিলেন বি এম সুলতান মাহমুদ। সোমবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয় সরকার।

শেয়ার করুন