Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছিল ছয় দিন, সাগরেই ফেলে দেওয়া হয় সবার লাশ

admin

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১১:৫২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছিল ছয় দিন, সাগরেই ফেলে দেওয়া হয় সবার লাশ

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual2 Ad Code

ভূমধ্যসাগরে যে নৌকায় মারা যানা সুনামগঞ্জের ১২ জনসহ ১৮ বাংলেদেশি সেটি সাগরে পথ হারিয়ে ফেলেছিলো। নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছিল ছয় দিন। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। একারণেই মারা যান নৌকার ২২ যাত্রী। যারা সকলেই অভিভাবস প্রত্যাশী।

নৌকা থেকে বেঁচে ফেরাদের সাথে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

লিবিয়া থেকে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়। এরমধ্যে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। যাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার।

Manual1 Ad Code

একই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৬ জনকে, যার মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।

মৃত ব্যক্তিদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। আর যাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের রাখা হয়েছে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে।

৬ মার্চ ভূমধ্যসাগর নৌকায় পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছান হবিগঞ্জের এক যুবক। তাঁকে গ্রিসের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ২৭ মার্চ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদেরও একই ক্যাম্পে রেখেছে দেশটির কোস্টগার্ড।

Manual8 Ad Code

ওই যুবক বলেন, মূলত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণেই ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা যান। নৌকাটি পথ হারিয়ে সাগরে ছিল ছয় দিন। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়।

ওই যুবক বলেন, শনিবার তিনি ক্যাম্পে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা সুস্থ আছেন।

ওই যুবক বলেন, বোটটি পথ হারিয়ে ফেলে। ছয় দিন সাগরে ছিল। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে অনেকে মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সুনামগঞ্জের। তবে মৃত মানুষের সঠিক সংখ্যা তাঁদের জানাতে পারেননি আহত ব্যক্তিরা। মৃত ব্যক্তিদের দুই দিন বোটে রেখে পরে তাঁদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। সীমিত খাবার নিয়ে ছোট ছোট বোটে করে লোকজনকে লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠানো হয়।

Manual7 Ad Code

শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক যুবককে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “আমাদেরকে বড় বোটের কথা বলে ছোট বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে ৫ জন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। বাকি আমরা জীবিত আছি, আর মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুইদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সকলকে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। লবণের পানিতে আমাদের অবস্থাও খারাপ।”

শেয়ার করুন