Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটকে মুখর সিলেট

admin

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ০২:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ০২:০৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পর্যটকে মুখর সিলেট

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আজ। তবু এখনও সিলেটে আসছেন পর্যটকরা। ঈদের পর দিন থেকেই পর্যটকে মুখর হয়ে আছে সিলেট। সিলেটের সব হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। আর পর্যটনকেন্দ্রগুরোতে উপচে পড়া ভীড়।

সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, লালাখাল কিংবা চা বাগান সব জায়গায়ই পর্যকটদের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ সোমবার ঈদের ছুটি ষে হলেও পর্যটক সমাগম আরও কিছুদিন থাকবে বলে আশা করছেন সংশ্লিস্টরা।

সাদাপাথর: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার শীতল জল আর ধলাই নদের বুকে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। ঈদের দিনে ভিড় কিছুটা কম হলেও ঈদের পরের দিন রোববার ছিল উপচে পড়া ভিড়।

Manual2 Ad Code

​সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকেই পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করেছে সাদাপাথরে। নৌঘাট থেকে শুরু করে সাদাপাথরের মূল পয়েন্ট পর্যন্ত সবখানেই এখন মানুষের আনাগোনা। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকেরা মেতে উঠেছেন জলকেলিতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা স্বচ্ছ নীল জলে সাঁতার কাটছেন। এই ঠান্ডা জলে সাঁতার কেটে নিজেদের ক্লান্তি দূর করছেন তাঁরা।

পর্যটকদের বাড়তি চাপের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌকার ভাড়া নির্ধারণ এবং পর্যটকদের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।

Manual3 Ad Code

​ঢাকা থেকে আসা মাহবুবুর রহমান নামে এক পর্যটক বলেন, ‘শহরের যানজট আর কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। পাহাড় আর পাথরের এই মিতালি সত্যিই অসাধারণ।’

সাদাপাথরের হোটেল আল বেলার মালিক লিটন মিয়া বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে পর্যটকেরা সাদাপাথরে আসা শুরু করছেন। আজকেও পর্যটকেরা এসেছেন প্রচুর। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ওঠার সময় হয় ঈদ বা কোনো উৎসব এলে। আশা করছি ছুটির বাকি দিনগুলোতেও পর্যটকদের আগমন ঘটবে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, ‘সাদাপাথরে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। তাদের সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আশা করি আগামী দিনগুলোতেও পর্যটকদের আগমন ঘটবে।’

Manual4 Ad Code

গোয়াইনঘাট : পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পর্যটকের আগমনে কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে পর্যটক-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। দিনব্যাপী পর্যটকে ভরপুর থাকায় খুশি এখানকার ব্যবসায়ীরাও।

ভারতের মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, পাথর আর ঝরনা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদের দিন থেকেই ভ্রমণে আসেন পর্যটকেরা। বেশির ভাগ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম আগে থেকেই বুকিং ছিল।

ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার পর্যন্ত প্রায় লাখো পর্যটক সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ভ্রমণে এসেছেন। এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। এ ছাড়াও বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলেও ছিল পর্যটকদের ভিড়।

সরেজমিন জাফলংয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকেরা ঘুরতে বের হয়েছেন। মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে যেন তাঁরা মুগ্ধ হন। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে মায়াবি ঝরনা, খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগানের উদ্দেশে যাচ্ছেন।

পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকা মাঝি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

Manual2 Ad Code

চট্টগ্রাম থেকে সপরিবারে বেড়াতে এসে আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, ‘ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। দীর্ঘদিন পর বেড়াতে এলাম। পাহাড়, পানি আর ঝুলন্ত ব্রিজ দেখলাম। খুব ভালো লাগল।’

বৃহত্তর জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরাও খুশি। পর্যটকদের সেবাদানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ রয়েছে।’

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, রোভার স্কাউটের সদস্যরা ও স্থানীয়রা ডুবুরিরা কাজ করছেন।

শেয়ার করুন