Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির ভারসাম্য রক্ষায় আরিফ-মুক্তাদিরকে ‘মন্ত্রীত্ব’

admin

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:৪২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বিএনপির ভারসাম্য রক্ষায় আরিফ-মুক্তাদিরকে ‘মন্ত্রীত্ব’

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual6 Ad Code

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে নেমেছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। কিন্তু এই আসনে দীর্ঘদিন থেকে মাঠে ছিলেন চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রাজনীতির মাঠে কেউ কাউকে ছাড় না দেননি। এমনকি দলের শীর্ষ নেতারাও এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করলেও কোর সুরাহা হয়নি।

শেষ মুহূর্তে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ডাকলেন আরিফুল হক চৌধুরীকে। নির্দেশ দিলেন সিলেট-৪ আসনের জন্য প্রস্তুতি নিতে। আরিফ তার কথা ফেলতে পারলেন না। সময় নিলেন। এরমধ্যে আরিফ সিলেটের আলেমদের এবং মায়ের এজাজত নিয়েই দলকে সম্মতি জানিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন।

Manual6 Ad Code

এদিকে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা প্রথমবার এমপি হয়ে মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেলেন।

Manual1 Ad Code

আরিফুল হক চৌধুরী ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির বিভিন্ন পদে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। আর খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিএনপির রাজনীতি থেকে প্রথমবার এমপি ও মন্ত্রী হলেন। তার পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ছিলেন সিলেট-১ আসনের দুবারের এমপি। এর আগে সিলেট বিভাগ থেকে বিএনপি সরকারে ১৯৯১ সালে এম সাইফুর রহমান টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালে এম সাইফুর রহমান ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং মৌলভীবাজার-১ আসনের অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী ছিলেন প্রতিমন্ত্রী।সূত্র জানায়, আরিফ ও মুক্তাদিরের মধ্যে প্রকাশ্যে কোন বিরোধ না থাকলেও দলের আধিক্য নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অভ্যন্তরীন বিরোধ। এই দুই নেতায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে সিলেট বিএনপি। তবে দুই নেতার বলয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভক্ত হলেও তাদের অবস্থান শান্তিপূর্ণ। তাদের মন্ত্রিত্ব দিয়ে সিলেট বিএনপিতে ভারসাম্য আনা হয়েছে বলে মনে করছেন দুই বলয়ের নেতাকর্মীরা। তারা একসঙ্গে কাজ করবেন বলেও প্রত্যাশা করছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রী সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। আর আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

জানা যায়, আরিফুল হক চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর। তার পিতার নাম সাদিকুল হক চৌধুরী ও মাতার নাম আমিনা খাতুন। আরিফুল হকের পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। তিনি সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা। দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। সিলেট এইডেড স্কুল ও সরকারি কলেজে লেখাপড়া করলেও হলফনামায় স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেন। শহর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন আরিফুল হক। এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হন। জনপ্রতিনিধি ছিলেন একাধিকবার। ২০০৩ সালে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন আরিফুল হক। আওয়ামী লীগের সময় ২০১৩ সালে ও ২০১৮ সালে দুই মেয়াদে সিলেট সিটির মেয়র নির্বাচিত হন। একাধিকবার জেল খেটেছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়া হত্যা মামলা এখনও ঝুলছে তাঁর ওপর। সিলেট-৪ আসনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬টি ভোট পেয়ে এমপি হওয়ার পর মন্ত্রী হলেন তিনি।

Manual6 Ad Code

অপরদিকে ২০১৮ সালে না পারলেও ২০২৬ সালে এসে সফল মুক্তাদির। এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক তিনি। তিনি নগরীর তোপখানা এলাকার বাসিন্দা। বনেদি পরিবারের সন্তান হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। এমএলএস উত্তীর্ণ খন্দকার মুক্তাদীর রাজনীতিতে যুক্ত হন ২০১১-১২ সালের দিকে। তার পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ১৯৯১ সালে সিলেট-১ আসন থেকে বিএনপির এমপি হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। বিএনপি পরিবারের লোক হিসেবে তার ছেলে মুক্তাদির রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে দল থেকে প্রথমবার নির্বাচন করেন। সেবার জয়লাভ না করলেও এবার সিলেট-১ আসনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬টি ভোট পেয়ে এমপি হন।

শেয়ার করুন