Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধা মাকে মারধর করায় গলায় পানির কলস ঝুলিয়ে বাজার ঘোরানো হলো ছেলেকে

admin

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বৃদ্ধা মাকে মারধর করায় গলায় পানির কলস ঝুলিয়ে বাজার ঘোরানো হলো ছেলেকে

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

বৃদ্ধা মায়ের ওপর নির্যাতন ও খাবার না দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গলায় পানির কলস ঝুলিয়ে পুরো বাজার ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর সেনবাগে। স্থানীয়ভাবে দেওয়া এই ব্যতিক্রমী ‘সামাজিক বিচার’ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ওই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

শাস্তিপ্রাপ্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ সহিদ। তিনি একই ইউনিয়নের চিলাদি গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় দিনমজুর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সহিদ বাড়িতে ছাগলের মাংস রান্না করলেও তার বৃদ্ধা মাকে এক লোকমা খাবারও দেননি। বরং মা খাবার চাইলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী মা স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ করলে শনিবার রাতে চৌকিদার দিয়ে সহিদকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। রোববার সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তাকে গলায় একটি পানির কলস ঝুলিয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় কলসে পানি ভরে তাকে পুরো বাজার ঘোরানো হয় এবং উচ্চস্বরে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে বলা হয়।

Manual3 Ad Code

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সহিদকে বলতে বলা হচ্ছে— ‘এই শাস্তি কিসের লাই? মারে মারার লাইগা।’

ভিডিওতে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, কোনো লোক যদি মাকে ভাত না দেয় বা মারধর করে, তাকে পুলিশে দেওয়ার দরকার নেই। আমরা এখানেই বিচার করব। এই লোক এখন গোটা বাজারে হাঁটবে আর নিজের অপরাধ স্বীকার করবে।

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, জেল-হাজতের চেয়ে এই ধরনের সামাজিক লজ্জা বেশি কার্যকর। তাদের মতে, এমন শাস্তি দেখে সমাজের অন্য অবাধ্য সন্তানরা সতর্ক হবে এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে শিখবে।

Manual3 Ad Code

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ হিসেবে এই তাৎক্ষণিক শাস্তিকে সমর্থন করলেও অন্যরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য শাস্তি না দিয়ে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত ছিল। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তিরও পরিবার ও সংসার রয়েছে।

Manual7 Ad Code

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের সমাজে মায়ের ওপর হাত তোলা একদম সহজ কাজ। অথচ এই মা ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করে কষ্ট করেছেন। সন্তান বড় হলে এসব ভুলে যায়। আগামীতে যেন এমন কাজ না হয় তাই এমন শিক্ষা।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন