Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেসব চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় গুম হন ইলিয়াস আলী

admin

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:২৯ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
যেসব চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় গুম হন ইলিয়াস আলী

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী গুমের নেপথ্যে কারা ছিলেন, কার নির্দেশে কোন কোন কর্মকর্তা গুমের মিশনে অংশ নেন-এমন অনেক স্পর্শকাতর তথ্য বের হয়ে আসছে। এ বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইলিয়াস আলী গুমের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে র‌্যাব। ঘটনার আগে ও পরে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও র‌্যাবের তৎকালীন ডিজির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন শেখ হাসিনা। র‌্যাব-১কে দিয়ে তুলে আনা হয় ইলয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে। ওই অভিযানে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকে এখনো দেশেই অবস্থান করছেন, এমন দাবিও করেছেন মামুন খালেদ।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালকসহ নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী। ওই সময় ডিজিএফআইর মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ।

সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিরপুর মডেল থানার এক হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর সরকার ও পরে আওয়ামী লীগ আমলের নানা অপকর্মের হোতাদের তথ্য দিচ্ছেন মামুন খালেদ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে শেখ মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের কাছে বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও জেরার একপর্যায়ে স্বীকার করেছেন গুমের অভিযানের সময় ডিজিএফআইর দুজন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন।

কেন ইলিয়াস আলীকে গুম করা হলো গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন খালেদ বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দেন ইলিয়াস আলী। এসব কারণেই তাকে গুম করা হয়।

Manual1 Ad Code

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ডিজিএফআইর তৎকালীন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের নকশাতেই এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। ২০১২ সালে ঘটনার ওই রাতে মামুন খালেদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, ডিজিএফআই ও র‌্যাবের বিশেষ দল ইলিয়াস আলীকে গুম করে।

Manual7 Ad Code

এছাড়া ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসা থেকে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের সঙ্গে কোন কোন সেনা কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, ঘটনার আগের রাতে কোথায় তারা বৈঠক করেন সেসব বিষয়ে গোয়েন্দাদের বিস্তর তথ্য দিচ্ছেন শেখ মামুন খালেদ।

মামুন খালেদকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ডে শেষে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে ফের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Manual8 Ad Code

রিমান্ড শুনানি চলাকালে মামুন খালেদ বলেন, ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১ বছর ৩ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। আমি কমিউনিকেশন অফিসার ছিলাম। আমার তিনটা পিএইচডি, পাঁচটি মাস্টার্স রয়েছে। আমি ২২ বছর একাডেমিক কাজে ছিলাম।

Manual8 Ad Code

তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেন, এক-এগারোর সময়ে ডিজিএফআই পরিচালকের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন ব্রি. জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশে টাকা আদায় করা হতো। এক-এগারোর সরকারের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। বিতর্কিত অনেক সেনা কর্মকর্তা সেসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন-গোয়েন্দাদের এমন প্রশ্নে আফজাল নাছের দাবি করেন, তিনি নিয়মের বাইরে কিছু করেননি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, যেসব মামলায় সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের রিমান্ডে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এক-এগারো ও পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন,আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন