Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অ*নি*য়*ম, ক্লাস পরীক্ষা বর্জন

admin

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
শাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অ*নি*য়*ম, ক্লাস পরীক্ষা বর্জন

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ও খনি প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগে যোগ্যতা পূরণ না করেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় অর্ধমাস ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ পাওয়া প্রার্থী তাজবিউল ইসলাম বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেননি।

Manual7 Ad Code

অনিয়ম করে নিয়োগ দেওয়া প্রার্থীর নাম তাজবিউল ইসলাম। তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-শিবপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। সেখানে স্নাতকে তাঁর সিজিপিএ ৭.৩৫। কিন্তু স্নাতকের সিজিপিএ ৭.৩৫-কে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতি সিজিপিএ ৪-এ রূপান্তর করলে তা ৩.২১ হয় বলে জানান পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।

Manual6 Ad Code

জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে সর্বনি¤œ ৩.৫০ সিজিপিএ চাওয়া হয়। কিন্তু তাজবিউল ইসলামের আবেদনের যোগ্যতা না থাকলেও তাঁকে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গত বছরের ৮ অক্টোরব তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হয় বলে জানান ওই বিভাগের প্রধান। এরপর কেন তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করা হবে না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কারণ দর্শানোর সুপারিশ করে ওই তদন্ত কমিটি।

Manual5 Ad Code

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাজবিউলের বেতন-ভাতা বন্ধ করে চাকরিচ্যুত করা হবে কিনা, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মন্তব্য চাওয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট সভা মন্তব্য চাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মন্তব্য নেয়নি বলে অভিযোগ পিএমই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন বলেন, “আমার কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে কিনা বা আমি দিয়েছি কিনা, ফাইল দেখা ছাড়া বলতে পারব না। ফাইল দেখে বলতে হবে।”
এদিকে নিয়োগের দেড় বছর পর তাজবিউলকে চাকরিতে যোগদানে বিরত রাখায় তিনি গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করে। রিটের কপি নিয়ে তিনি গত ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। এরপর পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সবধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাজবিউলের নিয়োগ বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিবে।

পিএমই বিভাগের অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি তানজিদ রহমান অপূর্ব বলেন, “বিগত দেড় বছর ধরে আমরা পিএমই বিভাগের সকল শিক্ষার্থী অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এই বিষয়টি স্বচ্ছ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করার জন্য, আমরা ডিপার্টমেন্ট এর সকল শিক্ষার্থী প্রথমে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিই, কিন্তু কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন বরাবরের মতই আমাদের হতাশ করে যাচ্ছে। তারা আমাদের প্রতিবার কথা দিয়ে যায় নিয়োগ বাতিল হবে কিন্তু কোনো এক দৈব্যশক্তির কারণে তার নিয়োগ বাতিল করা হয়না। প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আর ক্লাসে ফিরবো না। আমাদের একটাই দাবি এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল করতে হবে।”

এ বিষয়ে পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “যে শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভিসি ফরিদের আমলে, তা সম্পূর্ণ অনিয়ম করে হয়েছে। ওই প্রার্থীর নূন্যতম যোগ্যতাই নাই আবেদনের। তারপরও তাকে নিয়োগে দিয়েছে। আমাদের বিভাগে শিক্ষককের খুবই সংকট। তার পরেও অনিয়ম করে এ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ নানা আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করেছে। এখনও বিভাগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা ফিরছেনা।”

তিনি আরও বলেন, “তাজবিউল হাইকোর্টে রিট করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রিট খারিজে আপিল করেছে। আগামী সপ্তাহে সেটা চেম্বার জজে উঠবে বলে প্রশাসন বলেছে।” এ সময় এ নিয়োগ বাতিলে প্রশাসনের স্বদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ঘাটতির অভিযোগ তুলেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট খারিজ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিএমই বিভাগীয় প্রধানের পছন্দমত উকিল দিয়েই এটা করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে তাজবিউল ইসলামকে একাধিক বার কল দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন