Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে দলের সব কমিটি ভেঙে দিলো তৃণমূল কংগ্রেস

admin

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ১২:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ১২:০১ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে দলের সব কমিটি ভেঙে দিলো তৃণমূল কংগ্রেস

Manual4 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিদ্রোহে টালমাটাল অবস্থায় থাকা দলের সব সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের হাইকমান্ড। গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানানো হয়েছে এ তথ্য।

এক্সবার্তায় বলা হয়েছে, “সার্বিক বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সকল সাংগঠনিক কমিটি, দলের সব শাখা ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান কমিটিগুলো অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।”

Manual7 Ad Code

“দল সর্বস্তরে আত্মসমালোচনা, কর্মক্ষমতার মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার বিস্তৃত প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে মূল দল এবং সব শাখা ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে এবং যথাসময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।”

“তৃণমূল কংগ্রেস তার সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করতে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন উদ্যম ও লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট) বা সিপিএমের ৩৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয় দলটি। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮০টিতে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা।

Manual7 Ad Code

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে দলটির মধ্যে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, উপনেতা হিসেবে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে ফিরহাদ হাকিম ববির নাম প্রস্তাব করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের হাইকমান্ড।

Manual5 Ad Code

হাইকমান্ডের এই প্রস্তাবের পরই বিদ্রোহ শুরু হয় দলটির মধ্যে। বুধবার তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক নতুন বা আলাদা তৃণমূল কংগ্রেস গড়ার ঘোষণা দেন। এই নতুন তৃণমূলের যে চিঠি জমা পড়েছে বিধানসভার স্পিকারের কাছে। সেখানে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনোনীত করেছেন বিদ্রোহী বিধায়করা।

Manual1 Ad Code

গতকাল বুধবার বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন দলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। আর এক বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম।

সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে দলের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বিধায়কদের বিদ্রোহের জেরে দলের সর্বস্তরে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য এই বিপর্যয় রোধ করতেই সব কমিটি ভেঙে দিয়েছে তৃণমূল হাইকমান্ড।

শেয়ার করুন