Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে অ*প*রা*ধী*দে*র বিভীষিকাময় একদিন

admin

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে অ*প*রা*ধী*দে*র বিভীষিকাময় একদিন

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য বিভীষিকাময় একদিন কেটেছে। মহানগর পুলিশের অভিযানে একেবারে ড্রেনের ভেতরের আস্তানা থেকেও টেনে বের করা হয়েছে তাদের কয়েকজনকে। গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ১৭জন অপরাধী।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে রবিবার (১ মার্চ) বিকাল পর্যন্ত সময়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

রবিবার ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর বন্দরবাজার এলাকার রঙমহল টাওয়ার সংলগ্ন ড্রেনের ভিতরে অভিযান চালিয়ে ৭জন পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী থানাপুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪টি চাকুসহ ছিনতাইকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার দাসপাড়া গ্রামের মৃত ছাত্তার ও স্বপনা বেগমের ছেলে বর্তমানে ইমন আহমদ (২০), মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার শাপলাবাগ এলাকার মালেক মিয়া ও রুমি বেগমের ছেলে ইমন (১৮), সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার বীরগাঁও খাপাড় গ্রামের লাল মিয়া ও শেবারুন বেগমের ছেলে বর্তমানে সিলেট নগরীর কাজীটুলা সুলতান মিয়ার কলোনির বাসিন্দা শাহান আহমদ (১৮), এয়ারপোর্ট থানার বাইশটিলা এলাকার মৃত আসুল  আলম ও জোৎস্না বেগমের ছেলে ইয়াসিন (১৮), মৌলভীবাজারের রাজনগর থানার দাসপাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ও হাজেরা বেগমের ছেলে রুবেল (২১), সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার থানার গোপালপুল বাংলাবাজারের আসাদ মিয়া ও রাহেলা বেগমের ছেলে হৃদয় আহমদ (১৮) ও কোতোয়ালী থানার জল্লারপাড় এলাকার লিয়াকত ও মোছা. সালমা বেগমের ছেলে শওকত মিয়া (৩০)।

Manual8 Ad Code

এদিকে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর বাগবাড়ীস্থ পিডিবি গেটের সামনে অভিযান চালিয়ে কিশোরগ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে আটক করে কোতোয়ালী থানাপুলিশ।

তারা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আশকুড়ি বীরগাঁও’র পারভেজের ছেলে সাদি ইসলাম সানি (১৮), একই জেলার মধ্যনগর থানার চামারদানি গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে আবুল মোড়ল (১৮), তাহিরপুর থানার মাহমুদপুরের রিপন তালুকদারের ছেলে রিফাত তালুকদার (১৮), একই থানার রামসিমপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে জনি আহম্মেদ (১৯) ও হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের শরিফ উদ্দিন রোডের জিয়াউর রহমানের ছেলে নাহিদ আহমেদ রনি (১৮)। তারা চুরি ছিনতাইসহ নানান অপকর্মের সাথে জড়িত।

অপর এক অভিযানে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালাদিঘীরপাড় পশ্চিমপাড়াস্থ মো. সাদ উদ্দিনের বাসার সামনা থেকে ১ জন ও বন্দরবাজারের মহাজনপট্টি থেকে দুইজনকে আটক করে কোতোয়ালী থানাপুলিশ।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালাদিঘীরপাড় থেকে আটক করা হয় নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার নাসির উদ্দিন ও মনিরা বেগম মনির ছেলে আব্দুল মমিন তিহাম (২৬)। এ সময় তার হেফাজত থেকে ১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে রবিবার (১ মার্চ, শনিবার দিবাগত) রাত সোয়া ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর বন্দরবাজারস্থ মহাজনপট্টি থেকে ১৪ পিস ইয়াবাসহ তারেক আহমদ (২২) ও মো. নাজিম (২৪) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে কোতোয়ালী থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির একদল সদস্য।

তারেক সুনামগঞ্জের ছাতক থানার কৈতক এলাকার হোসেন আহমদ ও রাজনা বেগমের ছেলে। তিনি বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানার আম্বরখানা হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা। আর নাজিম চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার মধ্য সোনারপাহাড় এলাকার উকিল ভুইয়া ও গুলবানুর ছেলে। তিনি বর্তমানে কালিঘাট বড়গদি চাউলের দোকানে থাকেন।

এদিকে অপর আরেক অভিযানে নগরীর কাষ্টঘর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রহিম সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন টুকেরগাঁও গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর এলাকায় নূর মিয়ার বাসায় বসবাস করে আসছে।

এদিকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোটাটিকর এলাকা থেকে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে শাহপরাণ থানাপুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০)। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানার জামুড়িপাড়া সালন্দর গ্রামের মৃত আফজাল হোসেন ও ফেদৌসি বেগমের ছেলে। সাদ্দাম শাহপরাণ থানায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দায়েরকৃত একটি মামলার (নং ১৩) তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি। পুলিশ জানায় তিনি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ছিনতাই চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। তার নিকট থেকে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তার সিডিএমএস পর্যালোচনা করে পেনাল কোড ও দ্রুত বিচার আইনে মামলা পাওয়া যায়।

Manual1 Ad Code

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে আমরা কাজ করছি। এমন অভিযান আগামীতে আরও জোরালো হবে।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন