Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-২: বিভেদ ভুলে একসাথে লুনা ও হুমায়ুন অনুসারীরা

admin

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:১৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট-২: বিভেদ ভুলে একসাথে লুনা ও হুমায়ুন অনুসারীরা

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual6 Ad Code

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপির বিবদমান দুটি পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার সব আসনের সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ বৈঠক থেকে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দুই পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সিলেট নগরের লামাবাজার এলাকার এক রেস্তোরাঁ মিলনায়তনে বৈঠকটি হয়। বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বৈঠকটি চলে। এতে বিবদমান দুটো পক্ষের, অর্থাৎ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (লুনা) এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual5 Ad Code

জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তাহসিনা রুশদীর। তবে হুমায়ুন কবির দেশের বাইরে অর্থাৎ দুবাই থাকায় বৈঠকে ছিলেন না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

Manual5 Ad Code

জেলা বিএনপির আহ্বানে আয়োজিত বৈঠকে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা এবং বিশ্বনাথ পৌরসভা বিএনপিতে দুই বলয়ে বিভক্ত প্রভাবশালী নেতারাও যোগ দেন। নির্বাচন সামনে রেখে দুই বলয়ের নেতা-কর্মীদের একত্র করে দেওয়ার জন্য জেলা বিএনপি এ বৈঠক করলেও সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি জানায়নি। সন্ধ্যা ছয়টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বৈঠককে সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সমন্বয় সভা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

Manual8 Ad Code

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সভায় দলীয় কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে জেলার সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেন।বৈঠকে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে, গুমের শিকার হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে, কিন্তু মাথা নত করেনি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঘরে ঘরে পৌঁছে মানুষের কাছে দলের বার্তা তুলে ধরতে হবে। নেতা-কর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ, গণমুখী ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

সমন্বয় সভায় উভয় বলয়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ময়নুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, আইনজীবী আবরার ইলিয়াস, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাহসিনা রুশদীর বলেন, সিলেট-২ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও অধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বঞ্চনার অবসান ঘটাতে বিএনপির বিকল্প নেই। ঐক্য, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে বিজয় অবশ্যই নিশ্চিত হবে। জনগণের আস্থা ও সমর্থনই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ‘গুম হওয়া’ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী হলেন তাহসিনা রুশদীর। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে ইলিয়াস আলী গাড়িচালকসহ ‘গুম’ হন। এরপরই স্বামীর আসনে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তাহসিনা রুশদীর।গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েও আইনি জটিলতায় শেষ পর্যন্ত তাহসিনা রুশদীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পান।অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে একাধিক সভা-সমাবেশ করে এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। এ সময় স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাহসিনা ও হুমায়ুন বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েন। প্রভাব বিস্তারের জের ধরে তখন দুই বলয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘কোনো বিভেদ মেটাতে সভা হয়নি। বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। এ সমন্বয় সভা হয়েছে মূলত সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে। পর্যায়ক্রমে সব আসনেই এমন সভা হয়। সভায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শেয়ার করুন