Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-৫: উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য শক্ত চ্যা*লে*ঞ্জ চাকসু মামুন

admin

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট-৫: উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য শক্ত চ্যা*লে*ঞ্জ চাকসু মামুন

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সাথে দল নেই। নেই দলের পক্ষের স্থানীয় বড় বড় নেতৃবৃন্দ। কিন্তু তবু জমিয়তের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ মামুনুর রশীদ- চাকসু মামুন। এই আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতার হবে বলে মনে করছেন নিরপেক্ষ ভোটাররা।

সম্প্রতি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের কয়েকজন সচেতন ভোটারের সঙ্গে আলপকালে তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে।সিলেট-৫ জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এ  আসনে প্রার্থী হয়েছেন। আর আসন সমঝোতার রাজনীতির অংশ হিসাবে এখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী না দিয়ে জমিয়ত প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়েছে। আর এতে বাদ পড়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির বহিস্কৃত প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশীদ-চাকসু মামুন।মামুন দীর্ঘদিন থেকেই এ আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি ২০১৮ সালেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এবারও তিনি দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়িয়েছেন বলে প্রচার করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন আর পান নি।

এ অবস্থায় বিদ্রোহ করেন মামুন। ঘোষণা করেন, দল যে সিদ্ধান্তই নিকনা কেন, তিনি নির্বাচনে লড়বেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠেই আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ইতিমধ্যেই তার দল বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন।

এদিকে বিভিন্ন স্থানে দলের বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করায় বিএনপির স্থানীয় কমিটিগুলোকেও শাস্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে। কমিটিগুলো বাতিল করা হচ্ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সতর্ক। তারা প্রকাশ্যে কেউ মামুনের সঙ্গে নেই। দু’একজন থাকলেও তারা অবস্থান পাল্টে উবায়দুল্লাহ ফারুকের খেজুর গাছের পক্ষেই কাজ করছেন।

Manual7 Ad Code

তবে এত কিছুর পরের চাকসু মামুনই উবাদুল্লাহর জয়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে ধারণা করছে এই আসনের সচেতন বিভিন্ন ভোটার। তাদের মতে, অতীতেও জমিয়ত প্রার্থীকে এমপি বানিয়ে তারা কাংখিত উন্নয়ন পান নি। এ অবস্থায় তারা এবার আর জমিয়ত বা খেজুর গাছের দিকে না ঝুঁকে মামুনের দিকেই ঝুকবেন। তাছাড়া, দলীয় শাস্তির ভয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মামুনের পক্ষে না থাকলেও তাদের কর্মী সমর্থকরা যে নেই, সে নিশ্চয়তাও দেওয়া যাচ্ছেনা। মামুন তার জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়েছেন এই জকিগঞ্জ-কানাইঘাটবাসীর জন্য রাজনীতি করে। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ অনেক ভোটারের পাশাপাশি বিএনপির মধ্যেও তার ভক্ত অনুরাগীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। শাস্তির ভয়ে তারা তার সঙ্গে না থাকলেও ভোটের দিনে হিসাব নিকাষ পাল্টে যেতে পারে।

Manual4 Ad Code

জকিগঞ্জের একজন সাংবাদকি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমিয়ত শক্তিশালী কোনো সন্দেহ নেই। তবে এবার হিসাব অন্যরকম হতে পারেন। দলীয় শাস্তির  মুখে পড়ায় মামুনের প্রতি অনেকেরই সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে তার পক্ষে মাঠে সক্রিয়।

Manual4 Ad Code

আব্দুল আলিম (৪০) কানাইঘাট পৌর এলাকার একজন ভোটার।  সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি বা আমার পরিবারের সদস্যরা কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে মামুনের জন্য আমাদের বিশেষ একটা দায়িত্ব আছে বলে মনে করছি। কারণ, বছরের পর বছর যে দলের জন্য তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই দলটি তার ত্যাগের কোনো মূল্যায়ন না করে তাকে বহিস্কার করে দিলো! এটা যেমন আমরা মানতে পারছিনা, তেমনি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের সাধারণ বিএনপি নেতাকর্মীরাও মানতে পারছেন না। তার প্রতি আমাদের সহানুভুতি আছে।

এ অবস্থায় এই আসনে সচেতন মহল উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী চাকসু মামুনকেই বড় হুমকি বলে মনে করছেন।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন