Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্ত জনপদে আরিফের ভোটের ঝড়, পিছিয়ে নেই জয়নাল

admin

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০১:৪৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সীমান্ত জনপদে আরিফের ভোটের ঝড়, পিছিয়ে নেই জয়নাল

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সীমান্ত জনপদ নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এই আসনে এবার জমজমাট হয়ে উঠেছে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার ভোট যুদ্ধ। একদিকে ‘উন্নয়নের বরপুত্র’, অন্যদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসন পুনরুদ্ধারে ঘাম ঝড়িয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ঘুরছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জয়নাল আবেদীন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসন পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া আরিফ।

Manual2 Ad Code

ভোটের মাঠে বরাবরাই আরিফুল হক চৌধুরী ‘ম্যাজিকম্যান’ হিসেবে খ্যাত। একাধিকবারের সিটি কাউন্সিলর। দুবারের নির্বাচিত মেয়র। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তার নামের পাশে লেগে আছে নগরবাসীর দেওয়া ‘উন্নয়নের বরপুত্র’ খেতাব। তিনি যেখানেই যান, যেদিকে হাঁটেন, লাগে উন্নয়নের ছোঁয়া। এই সুনাম সিলেট মহানগরী ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে গ্রামগঞ্জেও! পৌঁছে গেছে তার নির্বাচনি এলাকা সিলেট-৪-এর গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জ ও জৈন্তাপুরেও। এরই মধ্যে সেখানে এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ অবস্থায় তাকে টক্কর দিয়ে পেরে উঠবেন তো জৈন্তাপুরের জয়নাল আবেদীন? প্রশ্নটি এখন মুখে মুখে।

Manual3 Ad Code

ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী একটি প্রভাবশালী নাম। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের সিসিক নির্বাচনে আওয়ামিলীগের প্রভাবশালী প্রার্থী সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেন। এরপর ২০১৮ সালে আবারও কামরান, দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালে তৃতীয়বার মেয়র পদে লড়তে গিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচন বর্জন করেন তিনি।

অপরদিকে, জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠের এক জনপ্রিয় নাম। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামিলীগের তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪ সালে আবারও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং আওয়ামিলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামিলীগের বর্তমান সভাপতি কামাল আহমদের সাথে লড়াই করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

Manual2 Ad Code

জানা যায়, সিলেট জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সিলেট-৪ ছিল বরাবরের মতো আলোচনার বাইরে। তবে প্রার্থী হিসেবে সিলেট-১ আসনের দাবিদার, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪-এ চলে যাওয়ার পর থেকে আসনটি উঠে এসেছে আলোচনার শীর্ষে। প্রথম দিকে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতা আরিফুল হক চৌধুরীকে মেনে নিতে পারেননি। ধীরে ধীরে আরিফের ম্যাজিকে কেটে যায় সবকিছু। গত দুই দিনে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে স্মরণকালের বৃহৎ দুটি সমাবেশ হয়েছে। সোমবার বিকেলে আরিফুল হক চৌধুরী সমাবেশ করেন গোয়াইনঘাটে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সমাবেশ অনেকটাই আভাস দিয়েছে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের। সিলেট-৪ জাতীয় সংসদের ২৩২ নম্বর আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন। সীমান্তের জনপদ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই আসনে ভোটযুদ্ধ এখন শেষ মুহূর্তে।

Manual8 Ad Code

প্রচারে পিছিয়ে ছিলেন না ১১দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাও। স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে জয়নাল আবেদীনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে জোটের সমমনা খেলাফত মজলিসসহ ইসলামি দলগুলো। জামায়াত প্রার্থী জয়নাল আবেদীনকে এক বছর আগেই এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় সামাজিক-রাজনৈতিক ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শুরু করেন। এলাকায় তিনি বেশ জনপ্রিয়।

এই আসনে মোট পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আরও আছেন, সাংবাদিক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিম (জাতীয় পার্টি), মাওলানা সাঈদ আহমদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), জহিরুল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।

শেয়ার করুন