Beanibazarer Alo

  সিলেট     সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ দিনে মক্কা-মদিনায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মুসল্লির সমাগম

admin

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
৩০ দিনে মক্কা-মদিনায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মুসল্লির সমাগম

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত ইসলামের দুই পবিত্রতম স্থান মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে গত এক মাসে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মুসল্লি ও দর্শনার্থীর অভাবনীয় সমাগম ঘটেছে। হিজরি ১৪৪৭ সনের জুমাদিউস সানি মাসের এই পরিসংখ্যানটি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি।

Manual7 Ad Code

দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নত সুযোগ-সুবিধার কারণে মুসল্লিদের উপস্থিতির এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। জুমাদিউস সানি মাসে মোট ৬ কোটি ৮৭ লাখ মানুষ এই দুই পবিত্র মসজিদে ইবাদত ও জিয়ারত সম্পন্ন করেছেন, যা সৌদি আরবের পর্যটন ও ধর্মীয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

Manual5 Ad Code

পরিসংখ্যানের বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আলোচিত সময়ে কেবল মক্কার মসজিদুল হারামে ইবাদত করেছেন প্রায় ৩ কোটি মুসল্লি। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৭০০ জন মুসল্লি কাবা শরিফ সংলগ্ন ঐতিহাসিক মাতাফ এলাকায় নামাজ আদায়ের বিরল সুযোগ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, মদিনার মসজিদে নববীতে ইবাদত ও জিয়ারতের জন্য সমবেত হয়েছিলেন ২ কোটি ৩১ লাখ মানুষ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের সুযোগ পেয়েছেন ১৩ লাখ মুসল্লি এবং মহানবী (সা.) ও তার দুই সাহাবির পবিত্র কবর জিয়ারত করেছেন আরও ২৩ লাখ মানুষ। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সেবা ও সমন্বিত লজিস্টিক ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু জুমাদিউস সানি মাসেই দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ১ কোটি ১৯ লাখের বেশি মানুষ ওমরাহ পালন করেছেন। এর মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আন্তর্জাতিক ওমরাহ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৭ লাখের বেশি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিসা ও যাত্রা পরিকল্পনা সহজতর হওয়ায় এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার কারণে বিদেশি যাত্রীদের আগমন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ওমরাহ পালনকারীদের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্জনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের জন্য হজ ও ওমরাহ প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও সহজসাধ্য করা।

দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষ এবং হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সেবার মান উন্নয়নে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। মুসল্লিরা যেন একটি সুশৃঙ্খল ও প্রশান্ত পরিবেশে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

সৌদি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফলে আবাসন থেকে শুরু করে যাতায়াত পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসল্লিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওমরাহ যাত্রীদের এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা মাথায় রেখে মক্কা ও মদিনার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন