Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে অতিথি আপ্যায়ন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, মহানবীর সুন্নত

admin

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ইসলামে অতিথি আপ্যায়ন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, মহানবীর সুন্নত

Manual7 Ad Code

ডিজিটাল ডেস্ক :
দানশীলতা ও উদারতা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর চরিত্রের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তার দানশীলতার পাশাপাশি অতিথির প্রতি সম্মান ও আন্তরিক আতিথেয়তাও ছিল অনন্য। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) সব মানুষের চেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন।’ (সহিহ বুখারি)

Manual1 Ad Code

আরব সমাজে অতিথি আপ্যায়নের প্রচলন ছিল। এমনকি জাহিলি যুগেও আরবরা অতিথিকে সম্মান করত। মহানবী (সা.) সেই ইতিবাচক সংস্কৃতিকে ইসলামের আদর্শের সঙ্গে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তার জীবনে আতিথেয়তা ছিল মহৎ চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় সুন্নত।

মহানবী (সা.) এর চরিত্র সম্পর্কে তার স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) বলেন, ‘আপনি তো আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায় দুর্বলদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, অতিথির সমাদর করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন।’ (সহিহ বুখারি)

Manual6 Ad Code

হজরত খাদিজা (রা.) এর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অতিথির সম্মান ও আপ্যায়নও রাসুল (সা.) এর চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।

অতিথির মর্যাদা
আতিথেয়তার গুরুত্ব বোঝাতে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন অতিথির সমাদর করে।’ (সহিহ বুখারি)

অতিথির অধিকার সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া যায় হাদিসে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘রাতে আসা অতিথির আপ্যায়ন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আবশ্যক। আর যদি তার কাছে অতিথি ভোর পর্যন্ত থাকেন, তবে সেই সময়ের আপ্যায়নও মেজবানের ওপর অতিথির পাওনাস্বরূপ।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ)

Manual4 Ad Code

এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, ইসলামে অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়; বরং এটি একজন মুমিনের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন
অতিথির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খাবার ও প্রয়োজনীয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা উচিত। পবিত্র কোরআনে হজরত ইবরাহিম (আ.) এর আতিথেয়তার ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এরপর তিনি অবিলম্বে আপ্যায়নের জন্য একটি ভুনা করা বাছুর নিয়ে এলেন।’ (সুরা হুদ: ৬৯)

Manual8 Ad Code

এ ঘটনা থেকে অতিথিকে সম্মান করা এবং তার জন্য দ্রুত আপ্যায়নের ব্যবস্থা করার শিক্ষা পাওয়া যায়। তবে আতিথেয়তার ক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে লোকদেখানো বা অপচয় কাম্য নয়; বরং আন্তরিকতাই এখানে মূল বিষয়।

আমাদের করণীয়
মহানবী (সা.) এর আতিথেয়তার আদর্শ আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে অনুসরণ করা প্রয়োজন। আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা পথিক, যে-ই অতিথি হয়ে আসুক, তার সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়ন করা উচিত।

আতিথেয়তা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বাড়ায়। একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর এই মহৎ সুন্নত অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও সুযোগ তৈরি হয়। তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দানশীলতা ও আতিথেয়তার এই গুণ ধারণ করা উচিত।

মহানবী (সা.) এর আতিথেয়তার আদর্শে আন্তরিকতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী আপ্যায়নই মুখ্য, তাই অপচয় এড়িয়ে বাস্তব জীবনে অতিথি আপ্যায়নের করণীয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায়।

শেয়ার করুন