Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিয়েও গুচ্ছ থেকে বের হতে পারছে না শাবি

admin

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিয়েও গুচ্ছ থেকে বের হতে পারছে না শাবি

Manual5 Ad Code

শাবিপ্রিবি প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও নানামুখী জটিলতায় গুচ্ছ থেকে বের হতে পারছেন না শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি)। এই প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে একাট্টা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পর মানসম্মত শিক্ষার্থীর সংকট, ফাঁকা আসন নিয়ে ক্লাস শুরু, দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়া, মেধাবীদের ভর্তিতে অনাগ্রহ, স্বকীয়তা হারানো, গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েও শিক্ষার্থী না পাওয়া, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিচিতি ও ব্র্যান্ড ভ্যালু ক্ষতিসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এমনকি গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে শাবিপ্রবির অবস্থান দিনদিন তলানিতে যাচ্ছে বলেও মনে করেন অনেকে। নিজেদের পূর্বের স্বতন্ত্র অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছুদিন ধরে মানববন্ধন ও দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সাথে একমত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও।

গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে আসতে গত ১০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে গত ১৫ নভেম্বর মানববন্ধন করেছেন তারা। মানববন্ধনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু হয়েছিল। আমরা সকলে গুচ্ছকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। তবে গত ৩বছরে গুচ্ছ সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বরং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

Manual4 Ad Code

এদিকে গত এক ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে উপাচার্যকে এই বছর গুচ্ছে থাকার আহবান জানান। যদিও গত ১১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমি কাউন্সিলের এক সভায় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রায় ২৫ দিন অতিক্রম হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যেতে বেশ কিছুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও। গত ৩০ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির এক সাধারণ সভায় গুচ্ছে না থাকার সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেন সকল শিক্ষকরা।

Manual8 Ad Code

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান, ‘সভায় গুচ্ছ প্রক্রিয়া না থাকার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে সিদ্ধান্তের অফিসিয়াল নোটিশ আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পোঁছে দিয়েছি। শিক্ষক সমিতি চায় না শাবিপ্রবি গুচ্ছে থেকে তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও শিক্ষার মান বিপর্যয়ে নিয়ে যাক।’

গুচ্ছ থেকে বের হয়ে আসতে গত ৪ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতির আরেকটি সাধারণ সভায় জোরালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষকদের সভা সূত্রে জানা যায়, দ্রুত গুচ্ছ থেকে বের হয়ে না আসলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোন ধরনের সহযোগিতা করবেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তিতেও বেড়েছে নানা জটিলতা। গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার পর আসন ফাঁকা রেখেই ক্লাস শুরু করতে হচ্ছে শাবিপ্রবিকে। এ বিষয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আবু সাঈদ আরেফিন খাঁন বলেন, ‘গত ৩ নভেম্বর ৮০টি আসন ফাঁকা রেখে আমাদের ক্লাস শুরু করতে হয়েছে। পরবর্তীতে ভর্তি বাতিল করে গুচ্ছভুক্ত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কিছু শিক্ষার্থী চলে যায়। এতে এখনও অনেক আসন ফাঁকা রয়েছে।

এর আগে গুচ্ছ প্রক্রিয়ার জটিলতায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ১৬২টি আসন ফাঁকা রেখে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছিল বলে জানান ওই বর্ষের ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুল হাকিম।

Manual2 Ad Code

এদিকে গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যেতে উদ্যমী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যেতে নীতিগতভাবে একমত বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে যেতে একাডেমি কাউন্সিলেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এমনকি উপাচার্য আজ ঢাকায় গিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলার জন্য। আশাকরি সবার সহযোগিতা পেলে আমরা গুচ্ছ সিস্টেম থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

Manual1 Ad Code

শেয়ার করুন