Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় কালমেগির তাণ্ডবে নিহত ৫৮

admin

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় কালমেগির তাণ্ডবে নিহত ৫৮

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্ক:
ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় কালমেগি, যার ফলে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যায় বহু এলাকা তলিয়ে গেছে এবং এতে অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এই টাইফুনের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে কয়েক লাখ মানুষকে আগাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ভোরের দিকে কালমেগি আঘাত হানতে শুরু করে এবং বুধবার আঘাত হানে। এএফপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালমেগির প্রভাবে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের সব শহর প্লাবিত হয়েছে।

Manual5 Ad Code

সেবুর বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপ-প্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো এএফপিকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেবল সেবুতেই এখন পর্যন্ত ২১ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং টাইফুনের তাণ্ডবে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। তিনি বলেন, তাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানুষই পানিতে ডুবে মারা গেছেন।

Manual5 Ad Code

সেবুর তথ্য কর্মকর্তা রন রামোস বলেন, ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ থেকে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আগাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কালমেগির আঘাত হানার আগের ২৪ ঘণ্টায় প্রাদেশিক রাজধানী সেবু সিটির আশপাশের এলাকায় ১৮৩ মিলিমিটার (সাত ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মাসিক গড় ১৩১ মিলিমিটারের চেয়েও অনেক বেশি বলে দেশটির সরকারি আবহাওয়া অফিসের বিশেষজ্ঞ চারম্যান ভারিলা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো বলেছেন, ‘সেবুর পরিস্থিতি সত্যিই নজিরবিহীন। আমরা ভেবেছিলাম প্রবল বাতাসই বিপদ ডেকে আনবে। কিন্তু… প্রকৃত ঝুঁকির কারণ হচ্ছে পানি। বন্যার পানিতে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে।’

সেবু সিটির বাসিন্দা ডন ডেল রোসারিও বলেন, ঝড়ের সময় তিনি অন্যদের সঙ্গে একটি ভবনের ওপরের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং ‘পানি খুব দ্রুত উঠছিল। ভোর ৪টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়; মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছিল না। আমি এখানে ২৮ বছর ধরে আছি। এর চেয়ে ভয়াবহ কিছু কখনও দেখিনি।’

Manual7 Ad Code

স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা এথেল মিনোজা জানিয়েছেন, সেবু সিটিতে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনো পানিবন্দি মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া লেইতে প্রদেশে নিজ বাড়িতে পানিতে ডুবে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন এবং বোহলে এলাকায় গাছচাপা পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

Manual3 Ad Code

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, মানব সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুন ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। উষ্ণ মহাসাগর টাইফুনকে দ্রুত তীব্র করে তুলছে এবং উষ্ণ বায়ুমণ্ডলের কারণে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারি বৃষ্টিপাতও ঘনঘন দেখা দিচ্ছে। এদিকে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যারা তাঁবুতে বাস করছিলেন, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সেবুর তথ্য কর্মকর্তা রন রামোস জানান।

বর্তমানে টাইফুন কালমেগি ফিলিপাইনের পশ্চিমাঞ্চলের ভিসায়ান দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করছে। ওই এলাকায় ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস বইছে এবং দমকা হাওয়ার গতি ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। ফিলিপাইনে প্রতিবছর গড়ে অন্তত ২০টি ঝড় ও টাইফুন আঘাত হানে। দেশটির আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ভারিলা বলেন, টাইফুন কালমেগির মধ্য দিয়ে দেশটি ইতোমধ্যে সেই বার্ষিক গড় সংখ্যায় পৌঁছে গেছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে আরও তিন থেকে পাঁচটি ঝড় আসার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা আলেজান্দ্রো জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার বিকালের দিকে ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তা করার সময় একটি উড়োজাহাজ উত্তর মিন্দানাও দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর পূর্ব মিন্দানাও কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রবল ঝড়ের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে গিয়ে উপকূলীয় শহর বুতুয়ানের পথে থাকা সুপার হিউই উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের কেউ জীবিত আছেন কিনা, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
সূত্র: এএফপি

শেয়ার করুন