Beanibazarer Alo

  সিলেট     শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ, তবে আইনের বাইরে নয়

admin

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
প্রয়োজনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ, তবে আইনের বাইরে নয়

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual1 Ad Code

নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা হবে সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ অনুসরণ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সেনা সদরের সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়াই এ সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য।ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচনপূর্ব সময়েই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই ১০ জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০ জানুয়ারি তা ১ লাখে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলায়, ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোয় মোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও চেকপোস্টের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Manual2 Ad Code

অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি থেকে গত ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার অধিকাংশই দেশি-বিদেশি পিস্তল। এছাড়া গোলাবারুদ, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোর অবস্থা বিবেচনায় যদি অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর রুলস অব এনগেজমেন্টটা কী হবে—জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সুনির্দিষ্টভাবে এনগেজমেন্ট বলে দেওয়া আছে। আমরা আইনের আওতায় থেকে সে রুলস অব এনগেজমেন্ট অনুসরণ করে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে থাকি। যদি সত্যি সত্যি কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রয়োজন হয় তাহলে রুলস অব এনগেজমেন্টে যে ক্রমান্বয়ে বল প্রয়োগের মাত্রা বৃদ্ধির একটা প্রক্রিয়া আছে সেটা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটের দিন আগে কিংবা পরে মব হলে সেনাবাহিনীর কী ভূমিকা থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি যে, বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে, মবের ইনসিডেন্ট আমরা দেখেছি। সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তা করতে বদ্ধপরিকর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে এই নির্বাচন থেকে বাইরে আছে এবং এই দলটির অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপন করে আছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে বা ভার্চুয়াল জগতে দেখছি যে, এই দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক থ্রেট বা হুমকি, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে বা না যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের থ্রেট দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোন থ্রেট পেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে আমি আলোচনায় যাব না। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আপনাদের নিজস্ব কোনো থ্রেট অ্যানালাইসিস রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এটা একটা থ্রেড অ্যাসেসমেন্ট করেছি। আমরা নন-লিথাল উইপেন এবং রায়ট কন্ট্রোল ইকুইপমেন্ট দিয়ে আমাদের বাহিনীকে সাজিয়েছি। নির্বাচন হওয়ার সুষুম পরিবেশ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সংশয় দূর করার জন্যই কিন্তু সেনাবাহিনী প্রধান সব বিভাগে ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছেন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা এই নির্বাচনের সঙ্গে নিয়োজিত থাকবেন তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। দুটো উদ্দেশ্য নিয়ে গিয়েছেন। একটা হচ্ছে তাদের আস্থা দেওয়া যে তাদের যে কোনো সহায়তা প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে জনগণকে আস্থা দেওয়া এবং ঐ বার্তাটা সুস্পষ্টভাবে দেওয়া যেসব বাহিনী সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, যেই আশঙ্কার কথা আপনি বলেছেন, আমরা এগুলো আমাদের অ্যাসেসমেন্টের মধ্যে নিয়েছি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারে সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত টহল জারি থাকবে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধেও সর্বাত্মক আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন