Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-১: কে হাসবেন শেষ হাসি?

admin

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেট-১: কে হাসবেন শেষ হাসি?

Manual8 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual1 Ad Code

কথিত আছে, ‘সিলেট-১ আসন যার, সরকারও তার’। পরিসংখ্যানও এই জনশ্রুতিকে সমর্থন করে। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জিতেছেন, তারাই ক্ষমতার চেয়ারে বসেছেন। এ কারণে এটি সংসদ নির্বাচনের ‘জাদুকরী আসন’।

সংসদ নির্বাচন এলেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সিলেটে মাজার জিয়ারত ও জনসভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করে। এবারও এই ধারায় ছেদ পড়েনি। তবে সবচেয়ে বেশি ছয়বার এই আসন জেতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটের হিসাব পাল্টে গেছে।

নগর ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত প্রায় সাত লাখ ভোটারের এ আসনটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের মধ্যে। নির্বাচনের ফলের নিয়ামক হতে পারে আওয়ামী লীগ, সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও চা শ্রমিকের ভোট।

Manual5 Ad Code

১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদীয় নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার সিলেট-১ আসনে জিতে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনসহ বিএনপি এই আসনে চারবার জিতে ক্ষমতায় যায়। জাতীয় পার্টি এই আসনে দুবার জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসে।

আগের নির্বাচনগুলোর ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ৩১.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ পায় ৩০.৩ শতাংশ। সেবার জামায়াত ১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩২.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জেতে। বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী পায় ৩২.২ শতাংশ ভোট। এই নির্বাচনে জামায়াত ৯.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে।

সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ ইউ শাহীন বলেন, এবার নির্বাচনে বড় নিয়ামক হতে পারে আওয়ামী লীগ, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটার।

এ ব্যাপারে কথা হয় দলাদলি যুবসংঘ সভাপতি মনুচন্দ্র দাশের সঙ্গে। তিনি জানান, এলাকার চা শ্রমিকরা সাধারণত আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। তবে এলাকায় জামায়াতের কর্মীরা বেশি খোঁজখবর নিয়েছে।

Manual7 Ad Code

কয়েকজন ভোটার নানা শঙ্কার কথা জানান। নগরীর উত্তর বালুচর এলাকার মুদি দোকানি শেখ রহিম বলেন, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে লড়াই হবে।
এ ব্যাপারে জামায়াতের প্রচারণা কমিটির প্রধান নগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রত্যেক নেতাকর্মী মাঠে কাজ করছেন।

খন্দকার মুক্তাদিরের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির প্রধান ও নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী কয়েস বলেন, বিএনপির কর্মীরা প্রত্যেকের বাড়ি যাচ্ছেন। তারা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

এখানে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণব জ্যোতি পাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া এবং সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সঞ্চয় কান্ত দাস।

Manual3 Ad Code

গুরুত্ব পাচ্ছে কর্মসংস্থান ও দূষণ
পরিবেশবিদরা বলছেন, ভারী বৃষ্টি নামলেই নগর ডুবে যায়। জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলার নামে দুই দশকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তবু দুর্ভোগ কমেনি। পাশাপাশি সিলেটে গ্যাস থাকলেও বড় কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে বেকার সমস্যা প্রকট। ভোটারের দাবির শীর্ষে রয়েছে এই দুই বিষয়।
হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা জানান, সিলেটের জলাবদ্ধতা স্থায়ী নাগরিক দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। আবারগত দুই যুগে কেটে ফেলা হয়েছে সিলেটের অনেক টিলা। যে জনপ্রতিনিধি পরিবেশ রক্ষা, খাল দখলমুক্ত আর টিলা কাটা বন্ধ করার জন্য জোরালো অঙ্গীকার করবেন মানুষ তাকেই ভোট দেবে।

সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ ইউ শাহীন বলেন, গ্যাস থাকলেও সিলেটে কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে এই আসনে কোনো কর্মসংস্থান নেই। প্রার্থী নির্বাচনে এ বিষয়টিও ভোটারের বিবেচনায় থাকবে।

শেয়ার করুন