Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরনোরা ‘আউট’: সংসদে নতুন প্রতিনিধি পাচ্ছে সিলেট

admin

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৩:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৩:১৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পুরনোরা ‘আউট’: সংসদে নতুন প্রতিনিধি পাচ্ছে সিলেট

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবার নির্বাচন শেষে সিলেটবাসী সংসদে প্রতিনিধি হিসাবে যাদের পাবেন, তাদের এই অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি। একেবারে নতুন প্রতিনিধি পেতে যাচ্ছে সিলেট।

Manual3 Ad Code

সিলেটের ৬টি আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মোট ৩৩ প্রার্থী। এদের মধ্যে প্রতিটি আসনের সম্ভাব্য প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীহ মধ্যে কেউ যদি বিজয়ী হন তাহলে সংসদ সদস্য হিসাবে হবে এটা তাদের প্রথম অভিজ্ঞতা, যদিও এদের মধ্যে কেউ কেউ আগে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন, কিন্তু জিততে না পারায় তাদের আর ‘সাংসদ’ হওয়া হয়ে উঠেনি।

যেমন, সিলেট-১ আসনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর ও জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।

Manual1 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

আগে এই দুই প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার অভিজ্ঞতা থাকলেও জয়ের নাগাল পাননি বলে সংসদে যাওয়া আর হয়নি তাদের।

এবার তাদের মধ্যে জিততে পারেন যে কেউ, যদিও ধানের শীষের সম্ভাবনাই বেশী দেখছেন রাজনীতি সচেতন নাগরিকবৃন্দ। তবে যিনিই জয় পাবেন, সংসদ সদস্য হিসাবে এটা হবে তাদের প্রথমবার।

 

Manual7 Ad Code

একই কথা বলা যায় সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের। এ আসনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের মুনতাছির আলী। তাদের দু’জনের মধ্যে যে ই জয় পাবেন, সংসদ সদস্য হিসাবে এটা হবে তাদের প্রথম যাত্রা। তবে এ আসনে ইলিয়াসপত্নী লুনা বিশাল ব্যবধানে জয় পেতে যাচ্ছেন বলে ধারনা দিয়েছেন সচেতন ভোটাররা।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমএ মালিক (ধানের শীষ) ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিকশা)। তাদের কেউ আগে কখনো সংসদে যান নি। যিনি জয় পাবেন সংসদ সদস্য হিসাবে এটা হবে তার প্রথম অভিজ্ঞতা।

সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন বিএনপি প্রার্থী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। তারা দু’জনেই একসময়ের জনপ্রতিনিধি। আরিফ সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলর ছিলেন একাধিকবার। আর জয়নাল আবেদীন ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলার একাধিকবারের উপজেলা চেয়ারম্যান। তবে এবার তাদের মধ্যে একজন প্রথমবারের মতো এই তিন উপজেলার হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

 

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের প্রধন তিন প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বিএনপি- জমিয়ত জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বহিস্কৃত বিএনপি নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ- চাকসু মামুন এবং জামায়াত জোট মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি মাওলানা আবুল হাসান। এ আসনে এই তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাদের কারো জনপ্রতিনিধি হিসাবেও কোনো অভিজ্ঞতা নেই বলেই জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো। আর তাই জাতীয় সংসদে যিনি প্রতিনিধিত্ব করবেন, তার জন্যই এ যাত্রা হবে প্রথমবারের।

 

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিন। তাদের কারো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এমরান অবশ্য একবার গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন। তবে সেলিম উদ্দিনের সেই অভিজ্ঞতাও নেই। সে যাইহোক, এবার এ আসন থেকে এমরান-সেলিমের মধ্যে যিনিই সংসদে যাবেন, সেটা হবে তার জন্য প্রথমবার।

 

মানে, সিলেটের-৬টি আসনে সংসদ সদস্য হিসাবে একই মুখ বার বার দেখতে দেখতে যারা অরুচিতে ভোগছিলেন, এবার তাদের মুক্তি মিলতে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন