Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চান ট্রাম্প: রুবিও

admin

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চান ট্রাম্প: রুবিও

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual3 Ad Code

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এ তথ্য জানিয়েছেন।গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “জাতিরাষ্ট্রগুলোর পরস্পরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করা প্রয়োজন— আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনে কাজ করছি, যিনি মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে তার কোনো বাধা নেই।”“আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে আগামীকাল যদি আয়াতুল্লাহ বলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তাহলে প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি আয়াতুল্লাহর সঙ্গে সব বিষয়ে একমত— এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। তিনি সাক্ষাৎ করবেন কারণ তিনি মনে করেন এ পৃথিবীতে এভাবেই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হয়।”

সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও জানিয়েছেন, ইরানকে কখনও পরমাণু শক্তিধর হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রথম থেকেই স্পষ্ট।

Manual1 Ad Code

ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, “ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট; কারণ ইরানের হাতে পরমাণু বোমা এলে তা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক এবং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে। এর বাইরে ইরানের সঙ্গে আমাদের যেসব ইস্যু আছে, সেগুলো আমরা কূটনৈতিক পন্থায় মিটিয়ে ফেলতে আগ্রহী।”

প্রসঙ্গত, উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তার ধারাবাকিতাতেই ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময়েই তেহরানের বিরুদ্ধে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করেছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

তারপর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর্যায়ে নেই এখনও।

Manual6 Ad Code

এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর ফের যুক্তিরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রী সরকার নিষ্ঠুরভাবে বিক্ষোভ দমন করা শুরু করার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ শান্ত হয়েছে ইরানে, ট্রাম্পও আর অভিযানের নির্দেশ দেননি।

কিন্তু একই সময়ে, অর্থাৎ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে নিজেদের বিশাল আকৃতির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।

গত দু’সপ্তাহ ধরে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সংলাপে বসেছেন ইরান ও ওয়াশিংটনের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৈঠক চলা সত্ত্বেও কেন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে- এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে রুবিও বলেছেন, “অতীতে আমেরিকার স্বার্থের উপর একাধিক বার আঘাত করেছে ইরান। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।”

Manual4 Ad Code

শেয়ার করুন