Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে পুলিশের ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার নিয়ে ‘সমন্বয়ক’সহ দুজন আটক

admin

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
সিলেটে পুলিশের ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার নিয়ে ‘সমন্বয়ক’সহ দুজন আটক

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual2 Ad Code

সিলেট মহানগরীর বাইপাস রোড এলাকায় বিমানবন্দর থানা পুলিশের চেকপোস্টে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকারসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়ালও জব্দ করা হয়।

Manual5 Ad Code

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু পাথরের লাইনম্যান (বালু, পাথর, চোরাইমাল বহনকারী গাড়ি থেকে টাকা উত্তোলনকারী) জুনায়েদ আহমদ।

এই দুজন আটক হওয়ার খবরে কোম্পানীগঞ্জজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ আটক লিটন মিয়া ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর জুনায়েদ আহমদ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু পাথর ও চোরাই মালামালের লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত।

কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আটক লিটন মিয়া চব্বিশের ৫ আগস্ট পর নিজেকে সমন্বয়ক। এরপর ভিপি নূরের গণঅধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জের আহ্বায়ক হন। এরপর থেকেই লিটন মিয়া পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা করে চোরাকারবারে লিপ্ত হন। চোরাকারবার করতে তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ও দেন।

লিটন যে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তা সবমহলে স্বীকৃত। যে প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি নিয়ে লিটন আটক হয়েছেন সেটা নিয়ে লিটন এলাকায় প্রায়ই ঘুরাঘুরি করতেন। চোরাচালানের পণ্যভর্তি ট্রাক এলাকা থেকে বেড়িয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য তিনি নিয়মিত প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি নিয়ে ট্রাকের পেছনে পেছনে যেতেন।

এ ছাড়াও কয়েকদিন আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তিন গ্রামের সংঘর্ষের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি লিটন। এই ঘটনায় তিনি সেনাবাহিনীর হতে আটক হয়ে হাজতবাসও করেছেন।

আটক জুনায়েদ আহমদ সম্পর্কে এলাকাবাসী বলেন, জুনায়েদ আহমদ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু-পাথর ও চোরাই মালামালের লাইনম্যান হিসেবে স্বীকৃত। তার কাজ হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জে যেসব এলাকায় বালু-পাথর উত্তোলন হয়, সেখানে এসব বহনকারী যানবাহন থেকে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য টাকা উত্তোলন করা। এর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই মালামাল ভর্তি যানবাহন থেকেও পুলিশ ফাঁড়ির জন্য টাকা উত্তোলন করেন জুনায়েদ আহমদ।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম। তিনি বলেন, ‘ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার দুটিই আমার। এবং আটক লিটন মিয়া আমার বন্ধু। ওই গাড়িতে আমিও তাদের সঙ্গে ছিলাম।

কামরুল জানান, হঠাৎ তিনি জানতে পারেন কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের জন্য মানুষজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই তারা পাড়ুয়া চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি দেশীয় কুড়াল পেলে সেটা গাড়িতে তুলে নেন। এরপর গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য লিটন ও জুনায়েদ চলে আসেন। তখন ওয়াকিটকি ও কুড়াল গাড়িতেই ছিল। গ্যাস আনতে যাওয়ার সময় তাদের আটক করে পুলিশ।

লিটন মিয়া চোরাচালানের পণ্যভর্তি ট্রাক এলাকা থেকে বেড়িয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য নিয়মিত প্রাইভেটকার ও ওয়াকিটকি নিয়ে ট্রাকের পেছনে যেতেন কি না? এই প্রশ্নের জবাবে এসআই কামরুল আলম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি জানি না। তবে সে আমার বন্ধু। আবার সে সাংবাদিকও। তাই বন্ধু হিসেবে মাঝে মাঝে আমার গাড়ি ব্যবহার করত।

Manual4 Ad Code

জুনায়েদ আহমদের ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির লাইনম্যান পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লাইনম্যান নামে কোনো পদ নেই। তবে আগে এসব হতো, এখন হয় না।’

এসআই কামরুল আলম বলেন, ‘ব্যাপারটি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন স্যাররা জানেন কি করবেন।’

আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মোবাশ্বির আলী বলেন, ‘আমাদের চেকপোস্টে তল্লাশিকালে একটি প্রাইভেটকার থেকে চাইনিজ কুড়াল ও একটি ওয়াকিটকি পাওয়া যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাই তাদেরকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।’

ওয়াকিটকি ও গাড়ির মালিক ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। যদি এসব ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন