Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে তা গোটা দেশের মানুষ জানে

admin

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:০৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে তা গোটা দেশের মানুষ জানে

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual3 Ad Code

কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে তাও গোটা দেশের মানুষ জানে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে কী হয়েছে সবাই জানেন। ভোট পড়েছে দাঁড়িপাল্লায়, আর পাস করানো হয়েছে অন্যজনকে।রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কোনো আদর্শবাদী শক্তিকে দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ড বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায় পরিকল্পিতভাবে নেতৃত্বশূন্য করতে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত শেষ হয়ে যায়নি। বরং বাংলাদেশের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে গত নির্বাচনে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনার বিচারের দাবি এবং শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual7 Ad Code

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পল্টনস্থ কার্যালয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

Manual2 Ad Code

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তাকে শুধু সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করলে ভুল হবে।

এই হত্যাকাণ্ড কেন ঘটানো হয়েছিল— প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে কতজন সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছিলেন? ৪/৫ জন! তাও মেজর জেনারেল বা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা নিহত হননি। অথচ পিলখানায় দুদিনব্যাপী ডালভাত কর্মসূচির নামে ঠান্ডা মাথায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ডালভাত কর্মসূচিতে এই ৫৭ জন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন না। তবুও তাদের হত্যা করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘দুদিনব্যাপী পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের সময় কি সরকার ছিল না? তারা কী করেছেন? নিহতদের পরিবারের আর্তনাদ যখন আকাশে-বাতাসে ভাসছিল, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মুচকি হাসছিলেন। ওনার দায়িত্ব কী ছিল? তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ-এর ভূমিকা কী ছিল? এতে বোঝা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধান উভয়েই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা জড়িত না থাকলে একজন মানুষের জীবনের কি কোনো দাম নেই?

ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন,‘ডালভাতের সমস্যার জন্য কাউকে কি হত্যা করতে হয়? তারা বসে বসে মুচকি হাসলেন এবং সোনারগাঁও হোটেল থেকে খাবার এনে খেলেন— এসব জাতি জানে, সাংবাদিকরা আরও ভালো জানেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার ও সেনাবাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি কেবল ডালভাতের জন্য ছিল না। এই মাস্টারপ্ল্যান ছিল দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করা এবং দেশের সীমান্তকে অরক্ষিত রাখা; যাতে তৎকালীন সরকারকে যারা ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারা এই দেশকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে পারে।

সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আজও সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়নি। তৎকালীন সরকার বা দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকার— কেউই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জনগণের সামনে প্রকাশ করেনি।

Manual3 Ad Code

তিনি অবিলম্বে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই আসল ঘটনা জানা যাবে। এছাড়া ওই ঘটনার পর বিডিআরের যে কর্মকর্তারা অস্বাভাবিক পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদেরও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন