Beanibazarer Alo

  সিলেট     বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক হলেন সিলেটের কায়সার রশিদ চৌধুরী

admin

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক হলেন সিলেটের কায়সার রশিদ চৌধুরী

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী।

তাকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে এই সংস্থায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার র‍্যাংক ব্যাজ পরানো হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Manual5 Ad Code

আইএসপিআর জানায়, নবনিযুক্ত মহাপরিচালককে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী সিলেট নগরীর সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

Manual2 Ad Code

সামরিক সূত্র ও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও চৌকস একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সর্বমহলে সুপরিচিত। তিনি দেশে এবং বিদেশে নিজ যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েই দেশের অন্যতম গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক পদে আসীন হয়েছেন।

মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্তমানে তিনি তার কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা। সামরিক প্রশিক্ষণে তিনি কখনোই দ্বিতীয় হননি বলে তাঁর সহকর্মীরা জানায়।

তাঁর রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা সম্মানজনক সামরিক কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুইবার অত্যন্ত সাফল্যের সাথে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন।

Manual3 Ad Code

দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া, তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিনি ৩ মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে নিজ যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা। ২০১৯ সালে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে (UNHQ) যোগ দেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ (Top TCC) হিসেবে সম্মান অর্জন করে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে। তাঁর পুরো কার্যকালেই বাংলাদেশ এই শীর্ষস্থান ধরে রাখে। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ডেপ্লয়মেন্ট বা নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মেধার জন্য তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সামরিক উপদেষ্টার (MILAD) বেশ আস্থাভাজন ছিলেন।

তাঁর এক সহকর্মী (সাবেক সেনা কর্মকর্তা) স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিএমএ-তে তাঁর ফার্স্ট টার্ম কর্পোরাল ছিলেন কায়ছার রশীদ, যাঁর হাত ধরে সেনাবাহিনীতে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। বুট পরা থেকে শুরু করে জীবনের প্রথম স্যালুট করা—সবকিছুই তিনি এই কর্মকর্তার কাছ থেকে শিখেছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও প্রশাসন—সর্বক্ষেত্রেই মেজর জেনারেল কায়ছার তাঁর যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। ডিজিএফআই এর হাল ধরার জন্য এমন মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাকে বাছাই করায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

অন্যান্যদের মতে, তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারই প্রমাণ করে যে, মেধা ও পেশাদারিত্বের ওপর ভিত্তি করেই ডিজিএফআই এর মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও দেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে।

Manual5 Ad Code

শেয়ার করুন