Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে বাংলাদেশি নারীকে ৪ বার বিক্রি, করা হয় ধর্ষণ

admin

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সৌদিতে বাংলাদেশি নারীকে ৪ বার বিক্রি, করা হয় ধর্ষণ

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরা রিজিয়া বেগম ১৩ দিন পর তার পরিবারের কাছে ফিরেছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিন উত্তরার আশকোনায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে রিজিয়াকে তার পরিবারের কাছে হন্তান্তর করা হয়।

ব্র্যাক জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রিজিয়া। এ সময় তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অসংলগ্ন থাকায় এবং নিজের ঠিকানা বলতে না পারায় সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সদস্যরা তাকে ব্র্যাকের কাছে হস্তান্তর করেন। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র ছিল না।

পরে পিবিআইয়ের উদ্যোগে রিজিয়ার আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মেলানো হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিন সন্তানের জননী।

Manual3 Ad Code

রিজিয়ার মেয়ে লিজা আক্তার জানান, ২০১৯ সালে এটিবি ওভারসিজ লিমিটেড নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরবে যান তার মা। সেখানে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০২১ সালের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২০২৩ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি পরিবার।

লিজা জানান, নির্যাতনের কারণে তার মায়ের শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে তাকে চেনাই কঠিন; বর্তমানে তিনি কোনো কথাও বলছেন না। অনুষ্ঠানে রিমা আক্তার (ছদ্মনাম) নামে সৌদি ফেরত আরেক নারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাকে চারবার বিক্রি করা হয় এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) নিরাপদ আবাসন ও চিকিৎসার জন্য তাকে ব্র্যাকের জিম্মায় দেয়।

Manual8 Ad Code

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দেশে ফেরা এমন নিপীড়িত নারীদের সহায়তায় বিমানবন্দরে একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো বা এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) থাকা জরুরি। এ ধরনের নারীরা দেশে ফিরলেও জড়িতদের কোনো বিচার হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Manual4 Ad Code

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, পিবিআই সাধারণত অপরাধী শনাক্তে কাজ করলেও এবারই প্রথম বিদেশফেরত কোনো ভুক্তভোগী নারী কর্মীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করেছে। বিদেশে নারীদের এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ভূঁইয়া, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম এবং এভসেক কর্মকর্তা মাহবুব আলম উপস্থিত ছিলেন।

Manual3 Ad Code

শেয়ার করুন