Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের দুই বন্ধু রিমান্ড শেষে কারাগারে

admin

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৩:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৩:৩৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পুলিশের দুই বন্ধু রিমান্ড শেষে কারাগারে

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম (প্রত্যাহার) ওয়াকিটকি, প্রাইভেটকার ও চাইনিজ কুড়ালসহ ধরা পড়া গণঅধিকার পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় এসআই মনির হোসাইন বাদী হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণের অপরাধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাবুল মিয়া আমলি আদালত-৬ এ কারাবন্দি লিটন ও জুনায়েদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৫দিনের আবেদন করেছেন বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। শুনানী শেষে আদালত তাদের দুজনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) একদিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

Manual1 Ad Code

দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ অজ্ঞাতনামা ৭/৮জনকে আসামী করলেও এদের কোন পরিচয় এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তবে রহস্যজনক কারণে পুলিশের সরকারি ওয়াকিটকি ব্যবহারকারী ও প্রাইভেট করের মালিক এসআই কামরুল আলমকে আসামী না করেই দায় সেরেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানায় এসআই মোহাম্মদ বাবুল মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালত লিটন ও জুনায়েদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাদের রিমান্ডে নিয়ে আসে পুলিশ। ওয়াকিটকি, চাইনিজ কুড়াল ও প্রাইভেটকার পুলিশের বলে জানায়। এছাড়া তাদের আরও কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে কারাবন্দি লিটনের বড় ভাই মরম আলী অভিযোগ করেন, চেকপোস্টে আটকের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে পরিকল্পিতভাবে তার ভাই ও গাড়িচালক জুনায়েদ আহমদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আগের রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই কামরুল নিজস্ব গাড়িতে সিলেট নগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পরিচিত হওয়ায় লিটনকে গাড়িতে তুলে নেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে এসআই কামরুল মাঝপথে নেমে যান এবং গাড়িটি লিটন ও চালকসহ সিলেটের দিকে আসে।

তিনি বলেন, চেকপোস্টে আটকের পর লিটন ও চালক কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের জানান যে, গাড়ি ও ওয়াকিটকি এসআই কামরুলের। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে এসআই কামরুল ঘটনাস্থলে এসে গাড়ি ও সরঞ্জামের মালিকানা স্বীকার করেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে লিটন ও জুনায়েদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন মরম আলী। তার দাবি, এসআই কামরুলের স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

Manual2 Ad Code

পুলিশ সূত্র জানায়, মামলায় উদ্ধার দেখানো হয়েছে মটোরেলা কোম্পানীর ওয়াকিটকি (যার মডেল নং-AZHO2RDH9VA1AN) প্রস্তুতকারক মালেশিয়া। এছাড়া চাইনিজ কুড়াল ও প্রাইভেট কার (যার নম্বর-ঢাকা মেট্রো-গ ১৭-১৪২৯) যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

Manual1 Ad Code

পুলিশ জানায়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট এলাকার বাইপাস রোডে চেকপোস্ট বসায় থানা পুলিশ। চেকপোস্ট চলাকালে এসআই কামরুল আলমের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি আটক করে পুলিশ। এসময় কার তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকি আর চাইনিজ কুড়ালসহ গণঅধিকার পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদ আটক করা হয়।

Manual6 Ad Code

ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম (প্রত্যাহার) বলেছিলেন, ‘ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার দুটিই আমার। এবং আটক লিটন মিয়া আমার বন্ধু। ওই গাড়িতে তিনিও তাদের সঙ্গে ছিলেন। হঠাৎ তিনি জানতে পারেন কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের জন্য মানুষজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই তারা পাড়ুয়া চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি দেশীয় কুড়াল পেলে সেটা গাড়িতে তুলে নেন। এরপর গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য লিটন ও জুনায়েদ চলে আসেন। তখন ওয়াকিটকি ও কুড়াল গাড়িতেই ছিল। গ্যাস আনতে যাওয়ার সময় তাদের আটক করে পুলিশ।’

শেয়ার করুন