Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে ডিসি সারোয়ারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চাইলেন আদালত

admin

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
যে কারণে ডিসি সারোয়ারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চাইলেন আদালত

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গোলাপগঞ্জে তাজউদ্দিন নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে অসহযোগিতা ও আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চেয়েছেন আদালত।

Manual2 Ad Code

রবিবার (১ মার্চ) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলছিল। এ সময় পুলিশের গুলিতে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

Manual4 Ad Code

মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআই-এর পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ মামলার তদন্তের জন্য ওই এলাকায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে জেলা প্রশাসক ও বিজিবি শ্রীমঙ্গলের উপমহাপরিচালকের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিজিবি তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সদস্যদের তালিকা সরবরাহ করে।

সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে কাঙ্ক্ষিত তথ্য প্রদান না করায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। তদন্তে অসহযোগিতার কারণে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত ডিসিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ১ মার্চ ধার্য তারিখেও তিনি আদালতের কাছে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

Manual1 Ad Code

সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে আদালতের আদেশ বারবার উপেক্ষা করা শুধু বেআইনিই নয়, বরং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চরম অন্তরায়। ডিসির এ ধরণের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ১৭৫, ১৭৯ ও ২১৭ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে আদালত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, আদালত থেকে দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে একবার একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে আর কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এখানে মূল দায়ী পুলিশ।

শেয়ার করুন