Beanibazarer Alo

  সিলেট     রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে ইউএনও সিন্ডিকেটের বি*রু*দ্ধে গুরুতর অ ভি যো গ

admin

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ০৩:১৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
জগন্নাথপুরে ইউএনও সিন্ডিকেটের বি*রু*দ্ধে গুরুতর অ ভি যো গ

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ নিয়ে ইউএনও ও তাঁর কার্যালয়ের নাজিরের বিরুদ্ধে নানা  অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ শনিবার (৭মার্চ) সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন।

Manual2 Ad Code

অভিযোগে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব। দাপ্তরিক সব কাজ এ পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার  করার কথা থাকলেও জগন্নাথপুর উপজেলায় এর ব্যতয় ঘটেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ তিনি নিজে একাই সব কিছু করছেন। এমনকি পিআইসির চেক বই, চেক বিলি রেজিষ্টার ও কনডিনেন্সি ফাইল আমার কাছ থেকে নিয়ে  ইউএনওর নাজির মিজানের কাছে রাখা হয়। আমাকে কোনঠাসা করে আর্থিক  অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে ইউএনও ও তাঁর কার্যালয়ের লোকজন।

Manual5 Ad Code

অভিযোগ রয়েছে ১৫ নম্বর প্রকল্প থেকে ইউএনওর কথা বলে নাজির মিজান ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে প্রকল্প কমিটি অনুমোদন ও অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ দেন।

এ প্রকল্পে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ  দেওয়া হয়।

এছাড়াও এ প্রকল্পে  পর পর দুটি বিল থেকে আরও ৮ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। গণমাধ্যমের কাছে  এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিন্টু মিয়া ও  সদস্য সচিব হেলাল মিয়ার ঘুষ দেওয়ার ঘটনা স্বীকারের রেকর্ড রয়েছে।

তাঁরা দুজন বলেন, প্রকল্প নিতে   ৭০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের সময় ইউএনও কার্যালয়ের নাজির মিজানের সঙ্গে  দুই কর্মচারী  উপস্থিত ছিলেন। দুটি বিল নিতে আরও আট হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলেও  তাঁরা জানান।

গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে ১ নম্বর প্রকল্প নিয়ে। এ প্রকল্পে প্রথমে আলা মিয়াকে সভাপতি করা হয়। পরে ১ লক্ষ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তাকে চাপ সৃষ্টি করে অব্যাহতি দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও  সিদ্দিকুর রহমান নামে একজনকে  কমিটি দেয়া হয়। ওই  সিদ্দিকুর রহমান তিনটি প্রকল্প কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্বে আছেন।

Manual5 Ad Code

তিনটি প্রকল্পে এক ব্যক্তি থাকা রহস্যজনক  বলে মনে করছেন কৃষকরা। প্রকল্পগুলো হলো ১,৩০ ও ৩১ নম্বর প্রকল্প। ৮ও ১৪ নম্বর প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন লিলু মিয়া মেম্বার।কাগজপত্রে এ দুই প্রকল্পে অন্যজন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তিনি রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে তাকে দুটি পিআইসি দিতে ছিলাউরা-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  শহিদুল ইসলাম বকুল ভূমিকা রাখেন।

Manual3 Ad Code

পিআইসি কমিটি গঠন ও আর্থিক লেনদেনে ইউএনও কার্যালয়ের লোকজনের পাশাপাশি ওই ইউপি চেয়ারম্যানের নাম এসেছে। ওই চেয়ারম্যানের ইউএনওর সাথে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বকুল ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ  নিয়ে ১২ নম্বর প্রকল্প কমিটি গঠন করেছেন। এমনকি তাঁর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম  ৩ নং  প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ওই প্রকল্পে ২৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও ১১ নম্বর প্রকল্প কমিটি গঠনে তিনি ভূমিকা রাখেন। এ প্রকল্পের মাটির কাজ গতকাল শনিবার পর্যন্ত শেষ হয়নি। ৮ও ১৪ নম্বর প্রকল্প কমিটি গঠনে তিনি মধ্যস্ততা করেন। এ দুটি প্রকল্পে লিলু মিয়া মেম্বার দায়িত্ব পালন করলেও কাগজপত্রে রয়েছেন অন্যরা।

অভিযোগ আছে ৩৭ প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্প  থেকে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এতে ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারীদের পাশাপাশি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের নাম রয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল  অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি  কোন অনিয়ম  বা আর্থিক লেনদেনে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির নেতা শামীম আহমেদ জানান, ইউএনওর স্বেচ্ছাচারিতায় এবার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে দায়সারা কাজ হয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। কমিটি গঠন থেকে শুরু করে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির বিলে ঘুষ আদায় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তাঁর অনিয়ম দুর্নীতিতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ আহমেদ আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী আমি সদস্য সচিব হিসেবে সব ফাইলপত্র চেক উপস্থাপন করার কথা।আমার দাপ্তরিক সব ফাইলপত্র ইউএনও নিয়ে গিয়ে আমাকে শুধু স্বাক্ষর করতে বাধ্য করছেন। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আমি সাচিবিক দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তুু আমাকে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হচ্ছে না।  আমি জিন্মি অবস্থায় জগন্নাথপুরে আছি। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন  কতৃপক্ষ ও  সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কে অবহিত করেছি। তাঁর অভিযোগ ইউএনও তাঁর কার্যালয়ের লোকজন কে নিয়ে এসব কাজ করিয়ে পিআইসির লোকজনের নিকট থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও কার্যালয়ের নাজির মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোন ধরনের অনিয়মে জড়িত নই। কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি।

অপরদিকে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও  বরকত উল্লাহ বলেন, এসও তার সাচিবিক সকল কাজ করছে। পিআইসি গঠন, কারিগরি কাজ মনিটরিং, বিলের এমবি ও চেক এসও উপস্থাপন করলে আমি শুধু সভাপতি হিসেবে প্রতিস্বাক্ষর করছি।  মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত চলতি বোরো মৌসুমে ৩৭ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি কমিটি গঠন) করে এবার ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দে ১৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।  নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ  ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ- সংস্কার কাবিটা কমিটির সভাপতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ  (এসও) এ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ বাস্তবায়ন করার কথা।

শেয়ার করুন