Beanibazarer Alo

  সিলেট     বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলিবিদ্ধ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালক থাকছেন ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে

admin

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
গুলিবিদ্ধ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালক থাকছেন ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual3 Ad Code

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশায় নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে ছুটেছিলেন চালক নূর মোহাম্মদ। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা–কর্মীদের বাধার মুখেও দমে না গিয়ে নাফিজকে নিয়ে আরেক দিকে ছুটেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার ছবি ছড়িয়ে পড়লে আলোচনায় এসেছিলেন রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ।

Manual4 Ad Code

সেই রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। আজ বুধবার তিনি  বলেন, এটি তাঁর জীবনের বড় পাওয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

এ জন্য আজ তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড নিয়ে এসেছেন। তবে এতে কী লেখা আছে, তা তিনি পড়তে পারেন না। কার্ডটি যাতে না হারায়, সে বিষয়ে তাঁকে সতর্ক থাকতে বলেছেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।

Manual4 Ad Code

২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় ১৭ বছরের কিশোর গোলাম নাফিজ। সে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। পরিবারসহ মহাখালীতে থাকত তারা। তারা দুই ভাই, নাফিজ ছিল ছোট। নাফিজের পরিবারের সদস্য, বন্ধুসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্দোলনে গিয়ে ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফার্মগেটের পদচারী–সেতুর নিচে নাফিজ গুলিবিদ্ধ হয়।

Manual1 Ad Code

গুলিবিদ্ধ গোলাম নাফিজকে পুলিশ যখন রিকশার পাদানিতে তুলে দেয়, তখনো সে রিকশার রডটি হাত দিয়ে ধরে রেখেছিল। রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক। পরে গোলাম নাফিজকে নিয়ে রিকশাচালক খামারবাড়ির দিকে চলে যান।

দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধার পরেও রিকশার পাদানিতে ঝুলতে থাকা নাফিজের কয়েকটি ছবি তুলতে পেরেছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার পর পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ছাপা হওয়া নাফিজের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবি দেখেই নাফিজের মা-বাবা সন্তানের খোঁজ পান।

ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদের তোলা সেই ছবিতে রিকশার পেছনে একটি মুঠোফোন নম্বর দেখা গিয়েছিল। ওই নম্বরে ফোন দিয়ে রিকশাচালক নূর মোহাম্মদকে খুঁজে বের করেন নাফিজের পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার পর রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ  জানিয়েছিলেন, রিকশাটি তাঁর নিজের ছিল। ওই দিন ফার্মগেটে ‘গ্যাঞ্জামের’ মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন এক পুলিশ তাঁকে ডেকে নিয়ে গেলে অন্যরা তাঁর রিকশায় একজনকে তুলে দেন। তিনি প্রথমে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে বাধার মুখে সেখানে ঢুকতে পারেননি। পরে খামারবাড়িতে গেলে কয়েকজন ‘নাফিজকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে’ বলে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চলে যান।

পরে গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের রিকশাটি হস্তান্তর করা হয়। এক ব্যবসায়ী ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে তাঁর কাছ থেকে রিকশাটি কিনেছিলেন তখন।

শেয়ার করুন