Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জানাজা শেষে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন

admin

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৪ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
জানাজা শেষে একই পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মোংলা সরকারি কবরস্থানে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাচান চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দাফন সম্পন্ন হলেও মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামে শোকের মাতম থামেনি। স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

Manual6 Ad Code

 

 

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ এবং চার নাতি-নাতনি প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী ও তিন ছেলে জীবিত থাকলেও পরিবারের বড় একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে ও নববিবাহিত বর আহাদুর রহমান সাব্বির, সাব্বিরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়া বড় ছেলে আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখও।

 

 

অন্যদিকে কনের পক্ষ থেকে নিহত হয়েছেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ার বেগম। তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে।

 

Manual2 Ad Code

 

স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারানো আশরাফুল আলম জনি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এক নিমেষেই স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি এখন কার মুখ চেয়ে বাঁচব?

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হলেও এটি এখনো চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। ফলে সরু রাস্তায় প্রায়ই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

 

 

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি মোংলায় ফিরছিল। পথে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, যা এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়।

Manual8 Ad Code

শেয়ার করুন