Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ছেলের জন‍্য সাদা পাঞ্জাবি কিনলা, তুমি কেন চইলা গেলা’

admin

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ | ০১:০৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ | ০১:০৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
‘ছেলের জন‍্য সাদা পাঞ্জাবি কিনলা, তুমি কেন চইলা গেলা’

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual2 Ad Code

স্বামীর মরদেহ যখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরে তখনও মরিয়ম আক্তার সাথীর বিশ্বাস হচ্ছিল না- আর কখনো ফিরবে না তার স্বামী। ফিরবে না তার তিন মাস বয়সী সন্তান আয়মানের বাবা। তাই লাশঘরের সামনেই তিনি আহাজারি করতে করতে বলছিলেন, ‘তোমার আয়মান আসছে কথা বলো, কথা বলো না কেন। ছেলের প্রথম ঈদে সাদা পাঞ্জাবি কিনলা। তুমি কেন পরপারে চইলা গেলা।’

ঘরে ঘরে যখন ঈদের প্রস্তুতি, ঠিক সেই সময়ই দুঃসংবাদ এলো মরিয়ম আক্তার সাথীর কাছে। শুনলেন তিনি স্বামী মুনতাসির সোলায়মানের মৃত্যু সংবাদ। সেই সংবাদ শুনে সন্তানকে নিয়ে ছুটে এলেন তিনি চমেক হাসপাতালের মর্গে। সেখানেই কখনো বিলাপ করছিলেন তিনি। কখনো কাঁদছিলেন নীরবে। অথচ ছেলের প্রথম ঈদ উদযাপন করতে সাদা একটা পাঞ্জাবিও কিনেছিলেন সোলায়মান।টেরিবাজারে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান মুনতাসির সোলাইমানসহ দুইজন। অথচ যে ভবনে আগুন লেগেছিল সেই ভবনে কোনও দোকানের কর্মচারী ছিলেন না তিনি। সোলায়মান পাশের একটি বিপণিবিতানের ম্যানিলা সুজ নামের একটি জুতার দোকানে চাকরি করতেন। সেহরি করে ভোরে কেবি অর্কিড প্লাজাতে যান তিনি। ছয়তলার ইবাদতখানায় নামাজ পড়তে গিয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু আগুন লাগার পর আর নিচে নামতে পারেননি তিনি। ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়ে মারা যান ভবনের ৫ তলাতেই।

Manual4 Ad Code

সোলায়মানের বন্ধু মোহাম্মদ আসিফ বলেন, ‘ও আমাকে ফোন দিয়ে বলছিল, ভাই, আমি মনে হয় আর বাঁচব না। আমাকে মাফ করে দিয়েন।’

Manual6 Ad Code

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের টেরিবাজার এলাকায় বহুতল বিপণিবিতানে আগুন লাগে। আগুনের ধোঁয়ায় গুরুতর আহত দুজনের মৃত্যু হয়। মুনতাসির সোলায়মান (২৭) ছাড়াও মারা যান মোহাম্মদ ইউনুস (৫৫)। আহত মো. মামুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুনতাসির সোলায়মান একটি জুতার দোকানের কর্মচারী এবং মোহাম্মদ ইউনুস একটি টেইলার্সের দরজি ছিলেন। তাঁদের দুজনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।

অভিযানে থাকা চট্টগ্রামের নন্দনকানন ফায়ার স্টেশনের পরিদর্শক মাসুদ রানা বলেন, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেরিবাজারের কেবি অর্কিড প্লাজায় আগুন লাগে। বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় ওয়েস্টার্ন টেইলার্স থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পরপরই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। বেলা পৌনে ১১টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে চতুর্থ তলার সাতটি দোকান পুড়ে গেছে।’

তিনি জানান, ঈদুল ফিতরের সময় চট্টগ্রামের এই এলাকার বিপণিবিতান ও দোকানগুলোয় কেনাকাটার খুব ভিড় থাকে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ সকালে মানুষের ভিড় ছিল না।

Manual5 Ad Code

অন্যদিকে, মোহাম্মদ ইউনুস কেবি অর্কিড প্লাজার চতুর্থ তলার পাকিজা টেইলার্সে দর্জির কাজ করতেন। তাঁর সঙ্গে একই দোকানে কাজ করতেন আহত মামুন। আগুনের সময় তাঁরা পাঁচতলার কারখানায় ছিলেন। ধোঁয়ায় আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি।

ইউনুসের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। সংসারে ইউনুস ছিলেন একমাত্র অবলম্বন। বাবার মরদেহ দেখে বড় ছেলে আরাফাতও আর্তনাদ করছিল মর্গের সামনে।

শেয়ার করুন