Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিটলারের মুখোমুখি সুভাষ বসু

admin

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ০১:৫৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ০১:৫৬ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
হিটলারের মুখোমুখি সুভাষ বসু

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তুঙ্গে। মধ্য ইউরোপের দেশগুলো ইতিমধ্যে জার্মানির দখলে; কিন্তু হিটলারের চোখ আরও পুবের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে। নাৎসি বাহিনী ইতিমধ্যে সোভিয়েত ককেশীয় অঞ্চল পেরিয়ে পৌঁছে গেছে ভলগা অববাহিকায়, কিন্তু স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে ঘেরাও হয়ে পড়েছে সোভিয়েত রেড আর্মির হাতে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলারের কপালে চিন্তা ও উদ্বেগের ছাপ। এ রকম সন্ধিক্ষণে, ১৯৪২ সালের ২৯ মে হিটলারের সঙ্গে অবশেষে দেখা হলো ভারতীয় স্বাধীনতাসংগ্রামী সুভাষচন্দ্র বসুর।

Manual6 Ad Code

ঘটনার পূর্বাপর

সুভাষচন্দ্র বসু ১৯২১ সালে আইসিএস পরীক্ষা শেষে ইংল্যান্ড থেকে ফিরে মুম্বাই গিয়ে সাক্ষাৎ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সঙ্গে। ৫১ বছর বয়স্ক গান্ধী তখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। সুভাষচন্দ্রকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত করেছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ। তিনি কেবল গান্ধীর অহিংস আন্দোলন না করে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রতিও সহানুভূতিশীল ছিলেন। সে সময় বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী এই আওয়াজ সুভাষচন্দ্র বসুর মতো অনেক আদর্শবাদী তরুণ-যুবককে আকৃষ্ট করেছিল।

Manual7 Ad Code

সুভাষচন্দ্র বসু ১৯২৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে সর্বভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন। ১৯৩৮ ও ১৯৩৯ সালে তিনি দুবার সর্ব ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনীতির কারণে বিশ বছরে এগারোবার জেল খেটে, অত্যাচারিত ও অপমানিত হয়ে তিনি খুব ভালো করে বুঝেছিলেন, এইভাবে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। তাই বিকল্প পথ খুঁজেছিলেন।সুভাষচন্দ্র ১৯৪১ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে কলকাতা ছাড়েন। কোন পথে কোথায় যাবেন, সেই ছক এঁকে নিয়েছিলেন আগেই। তাঁর বড় ভাই শরৎ বসুর বাড়ি ছিল কলকাতার এলগিন রোডে। সেই বাড়ির কাছেই উডবার্ন পার্কের বাড়িতে থাকতেন শরৎ বসুর ছেলে, ভাইপো শিশির বসু। পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশির বসু জার্মানির চেমনিজ শহরে তৈরি ভান্ডারা ডব্লিউ-৪ মডেলের একটি গাড়ি সেই বাড়িতে এনে পার্ক করে রাখেন। সুভাষ বসু সেই গাড়িতে করে কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করেন ১৬ জানুয়ারি রাত দেড়টায়; তখন তাঁর পরনে পাঠান পোশাক, মাথায় টুপি, মুখভর্তি দাড়ি। কলকাতা থেকে ঝাড়খন্ড (পূর্ব বিহার), ঝাড়খন্ডের গোমো স্টেশনে তিনি উঠে বসেন দিল্লি-কালকা মেইলে। সেই ট্রেন তাঁকে নিয়ে পৌঁছায় উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশোয়ার স্টেশনে। মুহম্মদ জিয়াউদ্দিন ছদ্মনামে সুভাষ বসু পেশোয়ার স্টেশনে নামেন ১৯ জানুয়ারি। সেখানে তাঁর দল ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতা আকবর শাহ তাঁকে গ্রহণ করেন; তিনি দুর্গম যাত্রাপথে তাঁর সহায়তার দায়িত্বে নিয়োগ করেন ফরোয়ার্ড ব্লকের তিন কর্মীকে: আবাদ খান, মহম্মদ শাহ ও ভগৎ রাম তালোয়ার। সুভাষ বসু প্রথমে পেশোয়ারের একটি হোটেলে ওঠেন, কিন্তু সেখানে নিরাপত্তার অভাববোধ হলে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয় আবাদ খানের বাড়িতে। ২৬ জানুয়ারি আবাদ খানের গাড়িতে মহম্মদ শাহ ও ভগৎ রাম তালোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে সুভাষ বসু রওনা করেন ইংরেজদের সীমান্ত চেকপোস্ট জামরুদের দিকে। গন্তব্য কাবুল।

Manual7 Ad Code

শেয়ার করুন