Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে গাইবান্ধায় সব পাম্প বন্ধ

admin

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ০৪:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ০৪:২২ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
জ্বালানি সংকটে গাইবান্ধায় সব পাম্প বন্ধ

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে উত্তরের জেলা গাইবান্ধায়। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় জেলার সাত উপজেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনের সবগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একইদিন শহরের বিভিন্ন পাম্প ও উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে বন্ধ থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।

Manual5 Ad Code

সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। দুপুর তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ এসেছে তার অর্ধেকেরও কম। ফলে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে তেল সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডের গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শহরের প্রধান পাম্পগুলোর একটি এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশিয়ার সরকার মিঠু মিয়া জানান, তিন দিন ধরে কোনো তেল নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া পর্যন্ত পাম্প চালু করা সম্ভব নয়। কম তেল নিয়ে বিক্রি শুরু করলে জনরোষ ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে।

একই অবস্থা রহমান ফিলিং স্টেশনেও। ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন, প্রথমে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও সংকট বাড়ায় তা ১০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। পরে তেল একেবারেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের দাবি, এক লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ জানাচ্ছেন অনেকে।

তবে পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত মোটরসাইকেল আসা, আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ এবং মজুদ করার প্রবণতা সংকটকে তীব্র করেছে। পাশাপাশি চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Manual4 Ad Code

এদিকে তেল পাওয়ার আশায় শহরের বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

Manual5 Ad Code

ভুক্তভোগী বাইকার সিয়াম বলেন, সরকার বলছে তেলের ঘাটতি নেই, কিন্তু বাস্তবে সব পাম্প বন্ধ। আমরা চরম বিপদে আছি।

আরেক গ্রাহক আবু সালেহ জানান, তিনদিন গাড়ি বের করিনি। আজ বের হয়ে চারটি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পেলাম না।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। সংকটের শুরুতে প্রশাসনের তদারকিতে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি করা হলেও শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একে একে সব পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।

Manual2 Ad Code

পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন, জেলার ১৭টি পাম্পই এখন বন্ধ। কোথাও পেট্রোল-অকটেন নেই। শুরু থেকেই চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া গেছে, যা সংকটকে তীব্র করেছে।

শেয়ার করুন