Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ হারানো ১০ জনই সুনামগঞ্জের

admin

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০১:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০১:০৭ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ হারানো ১০ জনই সুনামগঞ্জের

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual1 Ad Code

লিবয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ অভিবাবসনপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে ১৮ জনের বাড়ি বাংলাদেশে বলে জানা গেছে। আর ১০ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।

নিহত ১০ জনের মধ্যে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলারই রয়েছেন পাঁচ যুবক। তারা হলেন উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের আকলিফ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), উপজেলার পৌর এলাকার কবিরপুর গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২২), উপজেলার ইছগাঁওয়ের বাছির হোসেনের ছেলে আলী হোসেন (২৫), ও বাউরি গ্রামের সামসুল হকের ছেলে ইবাদত হক সুহানুর ( ২২ ) ।

দিরাই উপজেলার আছেন চারজন। তারা হলেন, উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), একই গ্রামের মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান ( ২৫ ), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৮), উপজেলার রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৪০)। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার আরেকজন মারা গেছেণ। তিনি কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০) । এছাড়া, দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের তারেক (২২) নামের আরো একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

তবে, একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণে বেচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক যুবককে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “আমাদেরকে বড় বোটের কথা বলে ছোট বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে ৫ জন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। বাকি আমরা জীবিত আছি, আর মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুইদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সকলকে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। লবণের পানিতে আমাদের অবস্থাও খারাপ।”

মারা যাওয়া দিরাইয়ের নুরুজ্জামান সরদার ময়নার মামা উমেদ আলী জানান, ওই নৌকায় থাকা একজন আমাকে ফোন করে ময়নার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। ময়না ছাড়াও দিরাইয়ের আরও তিনজনসহ বেশ কয়েকজন বাংলেদেশি মারা গেছেন বলে ফোনে জানানো হয়েছে।

Manual6 Ad Code

তিনি বলেন, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান নামে একব্যক্তির সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে ময়নাসহগ নিহত অপর তিনজন লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, গ্রীস যাওয়ার পথে সাগরে দিরাই উপজেলার চার জন মারা গেছেন। এরমধ্যে তিন জন কুলঞ্জি ইউনিয়নের ও একজন রাজানগর ইউনিয়নের। আমি স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে চারজনের মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।

তিনি বলেন, ওই চারজনের সাথে কুলঞ্জি ইউনিয়নের আরও দুজন ছিলেন। তাদের মাধ্যমেই চারজন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

Manual5 Ad Code

জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ২২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মধ্যে জগন্নাথপুরের ৪ জন রয়েছে বলে জেনেছি। আমরা যাচাইবাছাই করে দেখব কতজন মারা গেছেন।”

এদিকে, এমন ঘটনার পর দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

Manual1 Ad Code

শেয়ার করুন