Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে আরিফুল হককে ‘মগজ’ বলে ডাকেন শিক্ষামন্ত্রী

admin

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
যে কারণে আরিফুল হককে ‘মগজ’ বলে ডাকেন শিক্ষামন্ত্রী

Manual3 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

Manual7 Ad Code

বুধবার কয়েক ঘন্টার ঝটিকা সফরে সিলেটে এসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। সকালে সিলেটে এসে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

এতে সিলেটের শিক্ষা খাতসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন মিলন। বিএনপির আগের মেয়াদে নিজের প্রতিমন্ত্রী থাকার কথাও স্মরণ করেন মিলন। স্মৃতিচারণ করেন সেইসময়কার অর্থমন্ত্রী প্রয়াত এম. সাইফুর রহমানেকে। প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হকের প্রসঙ্গও আসে শিক্ষা ন্ত্রীর বক্তব্যে। একটি ঘটনার পর থেকে আরিফুল হককে ‘মগজ’ বলে ডাকেন বলেও জানান মিলন।

বুধবার সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিস্টরেদর সাথে মিবিনিময় সভা করেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জনাব সাইফুর রহমান এই বিভাগ গড়ার কারিগর ছিলেন। আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি তাকে। আরিফুল হক চৌধুরী তখন ছিলেন পৌরসভার (আদতে সিটি করপোরেশনের) কাউন্সিলর। তিনি (আরিফ) আমাকে বলেছিলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি চলাতে হয় তা্হলে উনার (সাইফুর রহমানের) কথা শুনতে হবে’। আমি প্রথমে উনার কথা বুঝতে পারিনি। আপনারা তো সকলেই জানেন, সাইফুর রহমানের খুব ঘনিষ্ট লোক ছিলেন উনি (আরিফুল হক)।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উনি বললেন, ‘আপনি আমার কথা শুনেন, মন্ত্রণালয় ভালোভাবে চলবে। আপনি আপনার চিফ ইঞ্জিনিয়ার পাঠিয়ে দিবেন’। আমি পাঠিয়ে দিলাম। তারপর তিনি চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কি কি করলেন জানি না। কিছুদিন পর একদিন আমাকে ফোন দিয়ে বললো, ‘আপনি সাইফুর রহমানের সাথে কাল সকালের ফ্লাইটে সিলেটে চলে আসবেন’।

Manual8 Ad Code

আরিফের কথামতো সিলেট চলে আসেন জানিয়ে এহসানুল হক মিলন বলেন, সার্কিট হাউসে আমরা উঠলাম। এরপর সাড়ে ১০ টার দিকে আরিফ এসে বলল, ‘এবার উঠেন’। আমরা দুজন সাইফুর রহমানের রুমে গেলাম। তিনি তখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। লুঙ্গি পড়া।

Manual4 Ad Code

‘‘আরিফ বললেন, ‘স্যার, মিলন ভাই একটু এমসি কলেজে যাবেন। আপনি যদি একটু উনার সঙ্গে যেতেন। আপনার পুরনো কলেজটি একটু দেখতেন। আপনারও ভালো লাগবে’।’’

সাইফুর রহমান তখন একটু অসুস্থ ছিলেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবু উনি আমার সঙ্গে যেতে রাজী হলেন। যাওয়ার পর উনার নামে উদ্বোধন করা হলো প্রশাসনিক ভবন। সেইসময়ের ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে। সাইফুর রহমান ওখানে গিয়ে বললেন, ‘আমি তিনবার অর্থমন্ত্রী হয়ে গেলাম। কিন্তু কেউ আমাকে আমার কলেজে কখনো নিয়ে আসেনি। যেখানে আমার স্মৃতি’।

‘এরপর তিনি হলগুলো ঘুরে দেখলেন। উনার চোখ অনেকটা অশ্রুসিক্ত হয়ে গেলো।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারপর একে একে অনেকগুলো, এমন কিছু নাই, সিলেটে করি নি। দূররে সামাদ অডিটরিয়াম থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, অনেকগুলো, আপনারা সব জানেন। একে একে আমরা ভিত্তিপ্রস্থর করতে লাগলাম’।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এরপর সাইফুর রহমান সাহেব আমাকে বললেন, ‘এই তোমার কোথায় কোন টাকা আটকে আছে বলো। এগুলো ছেড়ে দেই’। এরপর থেকে আমার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাকা ঘুরতে শুরু করলো। টাকার আর কোন অভাব থাকলো না। এবার বুঝতে পেরেছেন তো চালাকিটা। সেই থেকে তাকে (আরিফুল হককে) আমি মগজ বলে ডাকি।

এসময় দেশের ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের বিধি-বিধান ও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বুধবার দুপুরের দিকে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে থাকবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে এবং একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।”

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, “ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে উচ্চ বেতনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

“কিন্তু সেই তুলনায় মান নিয়ন্ত্রণ, কারিকুলামের সামঞ্জস্য এবং শিক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা যদি শুধুমাত্র বিত্তবানদের নাগালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তাহলে সামগ্রিকভাবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হবে।”

মন্ত্রী বলেন, “সরকার চায় দেশের প্রতিটি শিশুই মানসম্মত শিক্ষা পাবে সে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক না কেন। এজন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।”

শেয়ার করুন