স্টাফ রিপোর্টার:
শনিবার সিলেট সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণের পর এটাই তার প্রথম সিলেট সফর। তাই এই সফরকে ঘিরে সিলেটবাসীর প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া। বিশেষত নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা সিলেটবাসী এবার বঞ্চনার অবসান চান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি।বিএনপি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে বেশ কিছু প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন সিলেটবাসী। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সমাপ্তকরণ, সিলেট-ঢাকা রেলপথের উন্নয়ন ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সিলেট প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছে তিনি সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বেলা ১১টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউস–সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
একই দিন দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা তিনটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল পাঁচটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় এক সভায় যোগ দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। সড়কদ্বীপে নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন টানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবিদাওয়াও সামনে আনছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদের সই করা ওই দাবিগুলোর মধ্যে আছে সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ।
এ ছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপনসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর বিষয়টিও দাবির তালিকায় আছে।
প্রায় দুই দশক পর গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর প্রথম সিলেট সফর ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সফর সফল করতে দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক সভা করা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। তাঁর উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সিলেটসহ পুরো দেশ এগিয়ে যাবে বলে সবার প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি শেষ বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, এখন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় আছেন সিলেটবাসী।