Beanibazarer Alo

  সিলেট     মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাহিমা হত্যা: ‘জাকির একলা খুন করেছে, লাশ গুমে পরিবারের সবাই ছিলো’

admin

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০২:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ০২:৪৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
ফাহিমা হত্যা: ‘জাকির একলা খুন করেছে, লাশ গুমে পরিবারের সবাই ছিলো’

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
‘জাকির একলা ফাহিমাকে খুন করেছে, তবে হত্যার পর লাশ গুমে জাকিরের পরিবারের সবাই সাহায্য করেছে’- এমন অভিযোগ করেছেন সিলেটে খুন হওয়া চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারের চাচা ইমাম আহমেদ।

তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাই, এই পাষণ্ড জাকিরও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালায়। আমাদের বাড়ির পাশেই তার বাড়ি। তিনিসহ তার মা-ভাই-ভাবি সবাই নিয়মিত আমাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। তার মা ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন এসে আমাদের বাড়িতে চা খেতেন। এই সম্পর্কের মধ্যেও জাকির আমার ভাতিজির সঙ্গে এ কাজ করবে আমরা কেউ ভাবতে পারিনি।

তিনি বলেন, ফাহিমা নিখোঁজের পর তাদের পরিবারের সবাই আমাদের সঙ্গে সঙ্গে থেকে ফাহিমাকে খুঁজেছেন, তাই তার পরিবার যে এ বিষয়ে জানে এটা আমাদের ধরনার বাইরে ছিল।

Manual8 Ad Code

ইমাম আহমদ বলেন, যে ডোবার পাশে ফাহিমার মরদেহ পাওয়া গেছে সেটা অনেক নোংরা, সেখানে কেউ নামে না। কিন্তু ফাহিমাকে খুঁজতে জাকির এই নোংরা ডোবাতে নেমে যায়। তিনি যে খুনি সেটা যেন আমরা সন্দেহ না করি সেজন্য এসব করেছে। তার বড় ভাই জয়নালও সব জানতো, তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমার চলাফেরা ছিল, কিন্তু তারপরও জাকিরের বড় ভাই আমাকে কিছু বলেনি। ফাহিমাকে যখন জাকির হত্যা করে তার মা তার ঘরে ছিল, তার বড় ভাইয়ের বউ ছিল, তারা সব জানতো কিন্তু কেউ একবারও আমাদেরকে কিছু বলেনি, শুধু জাকিরের বউ ঘরে ছিল না। এ ছাড়া তার পরিবারের সবাই এ ঘটনায় জড়িত।

জাকিরের পাশাপাশি তার ভই জয়নালও এ হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত অভিযোগ করে ইমাম আহমদ বলেন, জয়নালও যে জড়িত সেটা আমি বুঝতে পেরেছি জালালাবাদ থানার ওসি সাহেব যখন আমার সঙ্গে কথা বললেন তখন। ওসি সাহেব আমাকে ডাকিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন আমরা কাউকে সন্দেহ করছি কি না। তখন আমি ওসি স্যারকে বললাম আমাদেরতো শত্রু নাই কার নাম দিমু। তখন তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন জাকিরকে চিনি কি না। আমি বললাম জাকির আমাদের এলাকার ভাই। তিনি তো সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল তাকে কীভাবে সন্দেহ করব? তখন তিনি বললেন জাকিরকে তার সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে।

Manual5 Ad Code

তখন জাকিরের ভাই জয়নালকে আমি গিয়ে বলি ওসিয়ে সন্দেহ করছেন তর ভাইকে, তর ভাই কই? তিনি বলেন, আমি জানি না, ২০ মিনিট পর আমি তারে আবার জিজ্ঞেস করি তর ভাই কই? তিনি বলেন তার ভাই গাড়ি চালাতে গেছে। এর আধাঘণ্টা পর জয়নাল তার ঘরে গিয়ে দরজা খুলে তার মাকে বলে, তোমাদের বললাম তাদের চোখের সামনে থাকতে। তাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকতে, জাকির কই তারে ডাকো। এ সময় জাকিরকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে এসে তার ভাই বলে, তরে বলছি তাদের চোখের সামনে থাকবি যেন তারা সন্দেহ করতে না পারে। এ সময় আমি তার পেছনে দাঁড়ানো, এসব কথা শোনার পর আমি ওসির কাছে গিয়ে বলছি জাকির ঘরে আছে এবং তারা এরকম কথা বলছে। পরে ওসি সাহেব বলছেন আমি যেন আর কাউকে কিছু না বলি, এর আধাঘণ্টা পরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

জাকির ও তার পরিবারের সদস্যদের দায়ী করে ফাহিমার চাচা বলেন, জাকির আমার ভাতিজিকে একলা খুন করেছে, কিন্তু খুনের পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার পরিবারের সবাই তাকে সাহায্য করেছে, এটা আমরা পরে বুঝতে পেরেছি। তার বড় ভাই সব জানার পরও আমাদেরকে উৎসাহ দিয়েছে ফাহিমাকে খোঁজার জন্য। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সে সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিল। আমরা যখন কালেঙ্গা পাহাড়ে ফাহিমাকে খুঁজতে যাই তখনও তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা কী করছি কাউকে সন্দেহ করছি কি না তিনি এটা নজরে রাখতেন। পরে আমরা শাহজালালের দরগাতে খুঁজতে যাই, এরপর যাই ডলিয়াতে সেখানে খুনি জাকিরও আমাদের সঙ্গে ছিল, সেদিন ভোররাতে আমরা বাড়ি ফিরি। ওইদিনই সকালে আমাদের পাশের বাড়ির ভাবি বাথরুমে গেলে ফাহিমার মরদেহ দেখতে পান। ভাবির ঘরের ১০০ গজের মধ্যে মরদেহ দেখে আমরা হতবাক হই, এখানে মরদেহ থাকার কথা না কারণ ২০ মিনিট আগেও আমরা এই জায়গায় ছিলাম।

তার বড়ভাই জয়নাল প্ল্যান করে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়েছে উল্লেখ করে ইমাম আহমদ বলেন, তার বড় ভাই বিভিন্ন মানুষের নাম দেয়, ফাহিমাকে খোঁজার জন্য। কিন্তু তার ঘরে যে আসামি, তার ভাই যে মেরেছে ফাহিমাকে এটা বলে না। মরদেহ পাওয়ার পরও তার বড় ভাই বলে ফাহিমার মরদেহ ওই জায়গা ফোলা কেন, ওই জায়গার মাংস নাই কেন, ওই হাড্ডি নাই কেন, এভাবেই তিনি আমাদের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করেন। আমরা চাই জাকিরের যেন ফাঁসি হয় এবং তার পুরো পরিবার যেন শাস্তি পায়।

Manual8 Ad Code

এদিকে, ফেসবুকে জয়নাল আহমদের দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে শুক্রবার তাদের ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় স্থানীয় কিছু লোক। ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে তারা। এরআগে ১১ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের রাতে একদফা এই বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

প্রসঙ্গত, ৬ মে নিখোঁজ হয় সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন সোনাতলা এলাকার চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার। ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর গত সোমবার (১১ মে) রাতে ফাহিমার হত্যার ঘটনায় জাকিরকে গ্রেপ্তার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। জাকিরের বিরুদ্ধে ফাহিমাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠেছে।

Manual2 Ad Code

শেয়ার করুন