Beanibazarer Alo

  সিলেট     শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ  | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হচ্ছে ‘ভয়হীন নরমাল ডেলিভারি’

admin

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৫:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৫:১৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হচ্ছে ‘ভয়হীন নরমাল ডেলিভারি’

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর চরম সংকট সত্ত্বেও রেকর্ডসংখ্যক স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) করিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করছে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসেই হাসপাতালটিতে মোট ৬৭৮ জন ডেলিভারি রোগী (সন্তান সম্ভবা) ভর্তি হন। যার মধ্যে ৪২১টিই ছিল নরমাল ডেলিভারি।

Manual2 Ad Code

অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার লেগেছে মাত্র ৮টিতে। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের তুলনায় নরমাল ডেলিভারির হার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরছে।

বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের মোটা অঙ্কের খরচ এড়িয়ে এখন সব শ্রেণিপেশার মানুষ এই সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সন্তান প্রসবের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া প্রসবের পরপরই হাসপাতাল থেকে নবজাতকদের একটি করে বিশেষ সনদ দেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে শিশুর জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজকে আরও সহজ করে তুলছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার কারণেই স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যেসব প্রসূতি মায়ের এবং গর্ভের সন্তানের ঝুঁকি থাকে শুধু তাদেরই সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রসব-পূর্ববর্তী ও প্রসব-পরবর্তী সার্বিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদানের কারণে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থাও বাড়ছে। গত ৬ মাসে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত বাচ্চা প্রসব হয়েছে মাত্র ৮ জন।

Manual3 Ad Code

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর দীর্ঘ সারি। দোতলায় কর্তব্যরত সেবিকাদের রুমে গর্ভবতী রোগীদের ভিড়। কর্তব্যরত সেবিকাদের গর্ভবতী রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ প্রদান করছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন। তকে কিছু ক্ষেত্রে সেবিকাদের দূর্ব্যবহার ও টাকা পয়সা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

Manual6 Ad Code

 

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছেন গৃহবধূ রশিদা বেগম। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ভালো পাওয়া যায়। এছাড়া সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে সরবরাহ না থাকলে কিছু কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনে নিতে হয়। প্রশ্ন করলে চিকিৎসকরা আমাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে উত্তর দেন।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রসূতি আসমা বেগম বলেন, ‘আগে প্রথমে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে খুব ভয় কাজ করত। কিন্তু এই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সদের সহায়তায় আমার নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। আমার সন্তান এখন সুস্থ আছে। কিন্তু হাসপাতালে আসার আগের অবস্থায় অন্য কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালে গেলে সেখানে সিজারের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হতো।’

 

 

এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের চরম ঘাটতি রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টিকাদান কর্মী, ৮টি সুপারভাইজার, ওয়ার্ডবয় পদ এবং আয়ার অনেকগুলো পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে কোনো গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।

Manual1 Ad Code

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মনিরুল হক খান বলেন, ‘এ হাসপাতালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকে। কিন্তু হাসপাতালে অনেক চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বাড়তি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা যদি বেশি হয় এবং নরমাল ডেলিভারি বেশি হয়, তাহলে অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসক সেখানে দেওয়ার চিন্তা করতে পারি। এছাড়া সেখানে কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট রয়েছে। আমরা সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

শেয়ার করুন